• কুকুর কামড়ালেই রাজ্যগুলির উপর বিশাল ক্ষতিপূরণ চাপাব, হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের
    বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি (পিটিআই): শিশু হোক বা বয়স্ক, কুকুরে কামড়ানোর ফলে জখম হোক বা মৃত্যু— প্রতিটি ঘটনাতেই রাজ্য সরকারগুলির উপর ‘বিশাল ক্ষতিপূরণ’ চাপাতে চলেছি আমরা। কারণ, বিগত পাঁচ বছর ধরে বিধিবদ্ধ নিয়ম বাস্তবায়নে তারা কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। পথকুকুরদের যাঁরা খাওয়াচ্ছেন, ‘দায়-দায়িত্ব’ এড়াতে পারবেন না তাঁরাও। মঙ্গলবার একেবারে সুস্পষ্ট ভাষায় একথা জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কুকুর কামড়ানোর ফলে দেশজুড়ে মৃত্যুর ঘটনা সত্ত্বেও সরকারি কর্তৃপক্ষ হেলদোলহীন। রাজ্য সরকারগুলির এহেন মনোভাব নিয়েই এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। 

    শুনানি চলাকালীন কুকুরপ্রেমীদের প্রতি বিচারপতি নাথের কড়া প্রতিক্রিয়া, ‘প্রাণীগুলিকে এতই যদি ভালোবাসেন, তাহলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে রাখেন না কেন? কুকুরগুলি চারপাশে ঘুরে বেড়াবে, কামড়াবে, মানুষকে আতঙ্কিত করবে, এসব ঠিক নাকি!’ কড়া বার্তা আসে বিচারপতি মেহতার তরফেও, ‘৯ বছরের কোনও শিশু কুকুরের হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলে সেই দায়িত্ব কার? যে সংগঠন রাস্তার কুকুরকে খাওয়াচ্ছে, তারা দায় এড়াতে পারে? আপনারা চান আমরা এই সমস্যার প্রতি চোখ বন্ধ করে বসে থাকি?’

    গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ জারি করেছিল, রাস্তাঘাট এবং স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পথকুকুর সরিয়ে দিতে হবে। সেই নির্দেশ সংশোধনের আর্জিতে পেশ হয়েছিল একঝাঁক আবেদন। তারই শুনানিতে এদিন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী মন্তব্য করেন, পথকুকুর সংক্রান্ত ইস্যু ‘আবেগের বিষয়’। একথা শুনেই বিচারপতি নাথ বলেন, ‘দেখছি যত আবেগ শুধুমাত্র কুকুর নিয়েই!’ বিড়ম্বনায় পড়ে গুরুস্বামী বলেন, ‘না, তা কেন। শুধু কুকুর নয়, মানুষ সম্পর্কেও আমি সমান উদ্বিগ্ন।’ একথা শুনেই বিচারপতি নাথ বলেন, ‘ভালো কথা। তাহলে ওদের (পথকুকুর) নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখুন।’ শীর্ষ আদালত এদিন আরও বলেছে, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল, গুজরাতে একটি পার্কে এক আইনজীবীকে কুকুরে কামড়েছিল। পুর কর্তৃপক্ষ যখন প্রাণীটিকে ধরতে যায়, কুকুরপ্রেমী সেই আইনজীবীই তখন পুরকর্মীদের উপর চড়াও হন।

    বিচারপতিদ্বয় আরও বলেছেন, গত চারদিন ধরে শুধুমাত্র বিভিন্ন পশুপ্রেমী ও এনজিওর যুক্তি শুনে চলেছি। তার বাইরে একচুলও এগনো যাচ্ছে না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির বক্তব্য শোনার সুযোগই হচ্ছে না। সব আইনজীবীর প্রতি অনুরোধ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির দায়িত্ব নির্ধারণে আমাদের নির্দেশ জারি করতে দিন। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির বক্তব্য শোনার জন্য আমাদের অর্ধেক দিন সময় দরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)