মোদির বন্দে ভারত স্লিপার সফর ঝাঁকুনিহীন হবে তো, চিন্তায় রেল
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উদ্বোধনের পর মালদহ টাউন থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে ‘অন বোর্ড’ থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্রেনে বসেই তিনি কথা বলবেন স্কুল পড়ুয়া এক ঝাঁক খুদের সঙ্গে। কেউ তাঁকে হাতে আঁকা ছবি উপহার দেবে। সেই ছবির বিষয়বস্তু হবে ‘নিউ জেনারেশন ট্রেন’। কেউ আবার পড়ে শোনাবে নিজের লেখা কোনও প্রবন্ধ বা রচনা। তার বিষয় হবে ‘বিকশিত ভারত’। প্রধানমন্ত্রী নিজেও খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে কিছুটা ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় মাতবেন। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে এখবর জানা গিয়েছে। কিন্তু মালদহ থেকে ফারাক্কা—প্রধানমন্ত্রী ‘অন বোর্ডে’র এই ৩০ মিনিটের যাত্রাপথ নিয়েই কার্যত হৃৎকম্প উপস্থিত হয়েছে রেলের। আশঙ্কা, ওই সময়টুকুতে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে কোনওরকম ঝাঁকুনি হবে না তো? মোদির ঝাঁকুনিবিহীন ট্রেন সফর নিশ্চিত করতে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছেন রেল বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা।
রেল সূত্রের খবর, প্রয়োজনে উদ্বোধনের আগে ফের জলের গ্লাসে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ঝাঁকুনিবিহীন চলাচল পরীক্ষা করতে পারে মন্ত্রক। অর্থাৎ, ঠিক যেভাবে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ট্রায়াল রান হয়েছিল। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই টুইটে ভিডিও পোস্ট করে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটারে ছুটছে ট্রেন অথচ তিনটি জলের গ্লাসের একটিতেও কোনওরকম কাঁপুনি টের পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ, বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন উচ্চ গতিতেও সম্পূর্ণ ‘জার্ক ফ্রি’। কিন্তু ট্রায়াল রানের কিছু অংশে যে পরীক্ষা সফল হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রী ‘অন বোর্ড’ থাকার সময়ও ফলবে কি না, তা নিয়েই রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন রেল কর্তারা। জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট করে যেটুকু সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে ‘অন বোর্ড’ থাকবেন, সেটুকু সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ১৮০ কিলোমিটারেই তা চালানো হবে। তবে উদ্বোধনের দিন পরবর্তী পথজুড়ে বাকি সময় এই ট্রেন চলবে ঘণ্টায় ১২৯.৯ কিলোমিটার গতিতে।
১৮ জানুয়ারি মালদহ টাউন স্টেশনে হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে প্রথম শয়নযানবিশিষ্ট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তিনি সবুজ পতাকা দেখাবেন ন’টি নতুন রুটের অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনকেও। এর মধ্যে সাতটিই বাংলাকে সংযোগকারী রুট। সেগুলি হল এনজেপি-নাগেরকয়েল, এনজেপি-তিরুচিরাপল্লি, আলিপুরদুয়ার-বেঙ্গালুরু, আলিপুরদুয়ার-মুম্বই, সাঁতরাগাছি-তামবারাম, শিয়ালদহ-বারাণসী এবং হাওড়া-আনন্দবিহার (দিল্লি)। অন্য দু’টি নয়া রুটের অমৃত ভারত ট্রেন হল গুয়াহাটি-রোহতক, হরিয়ানা এবং ডিব্রুগড়-লখনউ। অর্থাৎ, সেমি-হাইস্পিড বন্দে ভারতের পাশাপাশিই নন-এসি স্লিপার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের মাধ্যমেও ভোটমুখী রাজ্যগুলিকে জুড়তে মরিয়া কেন্দ্রের মোদি সরকার।