দাদুর সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের পার্থক্য চল্লিশ বছরের কম হলেই ডাক শুনানিতে
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: দাদুর বয়সের সঙ্গে নাতি বা নাতনির বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম হলেই ডাক পড়বে শুনানিতে। নির্বাচন কমিশনের নয়া ফরমানে রাজ্যে আরও কয়েক লক্ষ ভোটার বিপাকে পড়তে পারেন। অনেকেই দাদুর নামের সঙ্গে ম্যাপিং করেছেন। তাঁদেরকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর আগে বাবা বা মায়ের বয়সের সঙ্গে ১৫ বছরের কম ফারাক থাকলে তাঁদের ডাকা হয়েছে। এই কারণে ৯৭ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাও শুনানি কেন্দ্রে ডাক পেয়েছেন। ভোটারদের দাবি, আগের দিনে অনেকেরই কম বয়সে বিয়ে হয়ে যেত। সেক্ষেত্রে দাদু বা মায়ের বয়সের সঙ্গে ফারাকও খুব বেশি থাকত না। কোন যুক্তিতে নির্বাচন কমিশন বয়সের এই ফারাক দেখছেন তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সন্দেহজনক ভোটারদের ডাকা হচ্ছে। কোনও কোনও ব্লকে ২৫ হাজার বাসিন্দা ডাক পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানিপর্ব আদৌ শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সংশয়ে রয়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারদের শুনানির কাজ খুব ভালোভাবে হয়েছে। কোথাও অশান্তি হয়নি। নতুন করে কমিশন একাধিক ফরমান জারি করে সন্দেহজনক চিহ্নিত করছে। কমিশনের কাজ অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করা। সেটা করতে গিয়ে তারা অযথা বিভিন্ন বিষয়ে ভোটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলছে। বিএলওদের উপরেও কাজের চাপ বেড়ে গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির যুগ্ম কনভেনার বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশনের গ্রামবাংলা সম্পর্কে ধারণা নেই। দাদুর সঙ্গে নাতি নাতনিদের বয়সের ফারাক বাড়ানোর জন্য আগে তাদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার ছিল। তারপর তারা এই কাজ করত। আগে অনেকেই ১৮ বছরের আগেই বিয়ে করতেন। তাঁরা অল্প বয়সেই দাদু হয়ে যেতেন। সবক্ষেত্রে দাদুর সঙ্গে নাতি বা নাতনির বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের বেশি হবে এটা ভাবা ঠিক নয়। কে কোন বয়সে দাদু হবে সেটা ঠিক করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। তাঁরা নথি দেখে বৈধ অবৈধ ভোটার চিহ্নিত করতে পারত। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অনেকেরই বাবা ২০০২ সালের আগেই মারা গিয়েছেন। নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা দাদুকে দেখিয়ে ম্যাপিং করেছেন। এটা অন্যায়ের কিছু নয়। কমিশন নিজের খেয়াল খুশিমতো কাজ করতে চাইছে। অনেকের দাদু বা ঠাকুমার নামে ১৯৫০ সালে জমির দলিল রয়েছে। তাঁদেরও কমিশন বৈধতা দিচ্ছে না। এমনকি যাঁদের ছ’জন সন্তান রয়েছে তাঁরাও নাকি সন্দেহজনক। সেই সমস্ত ভোটারদেরও কমিশন নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে। প্রতীকী ছবি