নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুল, ২০১৬ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ আইন পুরোপুরি কার্যকর করতে হাওড়া পুরসভাকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল (এনজিটি)। মঙ্গলবার বিচারপতি অরুণকুমার ত্যাগী ও বিচারপতি ঈশ্বর সিং-এর বেঞ্চে এই নির্দেশ জারি হয়। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে সমস্ত তথ্য দ্রুত জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে পুরসভা।
এদিনের শুনানিতে ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, হাওড়া পুরসভার পক্ষ থেকে যে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেলগাছিয়া ডাম্পিং সাইটে বায়ো-মাইনিং ও লিগ্যাসি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ, নতুন বর্জ্য পরিবহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, ভেজা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, মেটেরিয়াল রিকভারি ফেসিলিটি এবং গৃহস্থালির বিপজ্জনক বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের অগ্রগতি। এছাড়াও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুল, ২০১৬-এর ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর নিয়ম মানা হয়েছে কি না, বর্জ্য সংগ্রাহকদের মূল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে কি না, এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর), সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র সংক্রান্ত তথ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে ট্রাইবুনাল। এদিনের শুনানিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এখনও পর্যন্ত বিধি প্রয়োগ ও নজরদারি সংক্রান্ত কোনও কার্যকর রিপোর্ট জমা দেয়নি। ফলে পর্ষদকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতীতে বিধি লঙ্ঘনের জন্য হাওড়া পুরসভার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপের কথাও বলা হয়েছে। এনজিটির নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দু’ মাসের মধ্যে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সময়সীমা ও বাজেট বরাদ্দ সহ বিস্তারিত অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে হাওড়া পুরসভাকে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নিয়মিত নজরদারি করে বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ মার্চ। বিষয়টি নিয়ে হাওড়া পুরসভার কনজারভেন্সি দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বেলগাছিয়া ভাগাড়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশনের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নতুন তিনটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে কেএমডিএ। বর্তমানে মোট চারটি সংস্থা সেখানে বায়োমাইনিং-এর কাজ করছে। আগামী বছরের মধ্যে জঞ্জালের পাহাড় সাফ করে ফেলা হবে বলে দাবি পুরসভার। হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘ট্রাইবুনালের নোটিস হাতে আসেনি। তথ্য দ্রুত জমা দেওয়া হবে।’ নিজস্ব চিত্র।