• দিল্লির কলকাঠিতে বাদ যাচ্ছেন বৈধ নাগরিকরা, মহিলা ভোটাররাই টার্গেট: মমতা
    বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফ্যাক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজেন্সি এবং ধর্মীয় বিভাজন, অর্থাৎ দণ্ড-ভেদে এর সঙ্গে কিছুতেই পাল্লা দেওয়া যাচ্ছে না। আর দ্বিতীয় ফ্যাক্টর, মহিলা ভোট। ২০২১’র বিধানসভা হোক বা গত লোকসভা ভোট—নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানই তৃণমূল কংগ্রেসে বাংলার মা-বোনেদের আস্থা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বহু আসনে তাঁরাই নির্ণায়ক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আর সেই কারণেই বিজেপির নির্দেশে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে মহিলা ভোটারদের। বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার বিজেপি-কমিশন আঁতাতের প্রসঙ্গ টেনে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদ্মপার্টির এই স্বৈরাচারী-অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মহিলাদের এগিয়ে আসার ডাক দিয়ে বললেন, ‘এগিয়ে আসুন। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে নিন। নাম বাদ গেলে এসডিও অফিসে যান। অভিযোগ দায়ের করুন। শেষ দেখে তবেই ছাড়ুন।’ 

    কিন্তু কীভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে মহিলা ভোটারদের? সেই কৌশলও এদিন প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘বিয়ের পর মহিলাদের পদবি বদল খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তার জন্য শুনানি! এমনকি পাশের বাড়িতে যাঁর বিয়ে হয়েছে, তাঁকেও শুনানিতে ডেকে হয়রান করা হচ্ছে। উপরন্তু নথি জমা নিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারের কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। লক্ষ্য একটাই—নাম বাদ দেওয়া। যেহেতু কমিশন নাম ‘ডিসক্লোজ’ করে তালিকা দেয়নি, নাম বাদ গেল কি না একজনের পক্ষে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘মাইক্রো অবজার্ভারদের দিয়ে এই চক্রান্ত সফল করতে চাইছে কমিশন। দিল্লিতে বসে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। বাদ চলে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের নাম।’

    রাজ্যের ৫৪ লক্ষের নাম অবৈধভাবে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি মমতা আঙুল তুলেছেন এক সেনা কমান্ডারের দিকেও। তিনি বিজেপির হয়ে এসআইআরের কাজ করছেন বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, ‘আমাদের কাছে রিপোর্ট রয়েছে, শুনানির জন্য ডাকা বহু ভোটারের নাম, যা জেলাশাসকরা লগ করেছিলেন... সেইসব ব্লক করে মুছে ফেলা হয়েছে। এটা গুরুতর ষড়যন্ত্র। নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। তাতে মানুষ ঠিক করে, কাকে ভোট দেবে। কিন্তু এখানে নির্বাচন ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশন অর্ধেক ভোটার মুছে দিয়ে কার্যত সরকার ঠিক করে দিচ্ছে!’ এখানেই শেষ নয়, চুপিসারে লাগাতার বহিরাগত নাম তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দিল্লির দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা। পাশাপাশি, বাঁকুড়া, মালদহ সহ একাধিক জেলায় ৯-১০ হাজার এসআইআর নথি খুঁজে পাওয়ার প্রসঙ্গও এদিন টেনে এনেছেন তিনি। সাফ বলেছেন, ‘গণহারে নাম বাদ দিতে ওইসব ফর্ম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।’ একসঙ্গে গুচ্ছ গুচ্ছ এসআইআর সংক্রান্ত নথি পাওয়া গেলে থানার আইসিদের এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই মর্মেই জেলায় নিযুক্ত আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘পুলিশ-বিডিওদের বলব, আইন মেনে কাজ করুন। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কাজ করতে সমস্যা হলে সরাসরি মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলুন।’ 

    কিন্তু কেন বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে।’ আবার টাকার খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে ১৩-১৪ জানুয়ারির মধ্যে শুনানি পর্ব শেষ করার নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া হয়েছে বলেও কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কমিশনকে তাঁর কটাক্ষ, ‘যেভাবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকলে তাঁর নামও হয়তো বাদ দিয়ে দিত।’            - নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)