নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবারের তুলনায় কলকাতা শহরের তাপমাত্রা বেড়েছে ঠিকই। তবে তা সামান্য। সোমবার ছিল ১২.৪ ডিগ্রি আর মঙ্গলবার তা বেড়ে হয়েছে ১৩.৩। কিন্তু এখন এই ১৩ ডিগ্রিও খুব একটা শীত নয়। বাঙালি উল্টে বলছে, ‘ঠান্ডা যেন একটু কম কম লাগছে।’ তা শুনে অনেকেরই বক্তব্য, ‘ঠান্ডা কিন্তু কম নয় মোটেও। আসলে এক মাস ধরে ১১-১২ ডিগ্রিতে থাকতে থাকতে এই ঠান্ডা এখন কিছুই নয়। শীত গায়ে সয়ে গিয়েছে, বুঝলেন।’ এইসব প্রশ্ন আর উত্তর নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে করতে উত্তুরে হাওয়া গায়ে লাগিয়ে বাঙালি ঠান্ডা আর এসআইআর ইস্যুতেই মশগুল। বাস-ট্রেন হোক বা পাড়ার চায়ের দোকান, সর্বত্র আলোচনার সর্বাগ্রে থাকছে এবছরের লম্বা শীতকাল। আবহাওয়ার এই শীতলপনায় মানুষের মেজাজও বেশ ফুরফুরে। প্রায় সকলেই বলছেন, ‘এপ্রিল-মে মাসের প্যাচপেচে গরমের চেয়ে এ ঠান্ডা অনেক ভালো গো।’
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগামী এক সপ্তাহ এরকমই থাকার সম্ভাবনা। উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন হচ্ছে না বলেই অনুমান। মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সোমবারের তুলনায় এক ডিগ্রির মতো বেশি। সল্টলেক আর দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ১৫.৫ এবং ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বারাকপুর আর মগরায় ছিল যথাক্রমে ১২.৮ এবং ১২.৫ ডিগ্রি। উলুবেড়িয়া, ক্যানিং ও কাকদ্বীপে ১১ ডিগ্রির মধ্যেই ছিল। ডায়মন্ডহারবার ও বসিরহাট ১২ ডিগ্রির ঘরে। যথারীতি সবথেকে কম কল্যাণী। সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৭ ডিগ্রি।
মঙ্গলবার সকালের দিকে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল শহর। বেলা বাড়তেই রোদের তেজ। রোদের মধ্যে খাটাখাটনি করলে ঘাম মুছতে হয়েছে। শিয়ালদহে এক ফলবিক্রেতার বক্তব্য, ‘সোয়েটার খুলে রেখে কাজ করতে হচ্ছে। নাহলে ঘাম হচ্ছে। কিন্তু হালকা হাওয়া আছে বলে কষ্ট হচ্ছে না।’ তবে এরমধ্যেও জানা গিয়েছে, এদিন কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.১ ডিগ্রি কম। সন্ধ্যা হতেই তা হাড়ে হাড়ে মালুম দিয়েছে। আবহাওয়া তখন জানান দিল, শীতকে এখনও হালকাভাবে নেওয়ার সময় আসেনি। সূর্য অস্ত যেতেই ঠান্ডা বাড়বে। তখন গরমজামা উঠল শরীরে। আজ, বুধবার মকর সংক্রান্তি। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকারই সম্ভাবনা। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা ঢেকে রাখবে কলকাতা শহরকে।