আশ্বাস আর নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের লিখিত প্রতিশ্রুতি দাবি, মতুয়া-ক্ষোভে বেকায়দায় বিজেপি
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর পর্বে ভোটাধিকার রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন আর কোনও গালভরা প্রতিশ্রতি চাইছে না। তাঁদের দাবি, নিঃশর্ত নাগারিকত্ব দেওয়া হোক মতুয়াদের। আর তার জন্য লিখিত নির্দেশিকা জারি করুক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কারণ, এসআইআর নিয়ে তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, তা পূরণ হওয়ার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ। সেক্ষেত্রে হাজার হাজার মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ঠেকানো যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরে চাপে যেমন ক্রমশ বাড়ছে, তেমনই চিন্তায় রয়েছে তৃণমূল।
নাগরিকত্ব চেয়ে সিএএ-তে আবেদন এসআইআরে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। বাড়ির সামনে ও ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরে সিএএ’র জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছিল। বদলে দেওয়া হচ্ছিল ‘হিন্দুত্বের সার্টিফিকেট’! কিন্তু এই ধরনের কোনও সার্টিফিকেট বা সিএএ-তে আবেদনের নথি গ্রাহ্য হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই অবস্থায় মতুয়াদের বড় অংশের বক্তব্য, ‘ঠাকুরবাড়ির ঠাকুররা কী বললেন, আমরা মানব না। কারণ, নাগরিকত্বের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আওতাধীন। সেখান থেকে লিখিতভাবে কিছুই জানানো হয়নি।’ সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির দিন ঠাকুরবাড়ির সামনে ও নাটমন্দিরে দাঁড়িয়ে এমনই আক্ষেপের কথা গিয়েছে একাধিক মানুষের গলায়।
উল্লেখ্য, ৯ জানুয়ারি ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে আসেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়াগড়ে প্রায় ছ’লক্ষের বেশি মানুষ ডাক পেয়েছেন এসআইআরের শুনানিতে। তাঁদের সিংহভাগের কাছেই কমিশন নির্ধারিত নথিগুলির একটিও নেই। শুনানিতে গিয়ে কী নথি দেখাবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তিও আছে। অভিষেকের কর্মসূচির আগের দিন বাঁকুড়ার সারেঙ্গা থেকে আসে মতুয়াদের একটি দল। সেই দলের দায়িত্বে ছিলেন শিবানন্দ গোঁসাই। নাটমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘মতুয়ারা নাগরিকত্ব পাবে কি না, এটা দেখার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য মানতে পারছি না। কেন্দ্র থেকে এনিয়ে লিখিতভাবে কিছু না জানানো পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারব না।’ বনগাঁর অনিমেষ হালদার শান্তনু ঠাকুরপন্থী। তিনি বললেন, ‘চিন্তার কিছু নেই। মন্ত্রী বলেছেন যখন, আমরা আর এনিয়ে ভাবছি না। রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েও সদুত্তর পেয়েছি।’ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন হাবড়ার জয়ন্ত গোঁসাই। তিনি প্রতিবাদ করে বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে সিএএর মাধ্যমে নাগরিকত্বের কথা বলা হচ্ছে। কোথায় হল কাজ? প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এসে শুধু বলেছেন, মতুয়াদের চিন্তার কিছু নেই। এটা তো ভোটের কথা।’ এনিয়ে তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়াদের নাম কেটে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি।’ পাল্টা শান্তনুপন্থী মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইনের দাবি, ‘স্বয়ং রাষ্ট্রপতি ও স্বরাস্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দ্রুত এর সুফল পাবেন মতুয়ারা।’