সংবাদদাতা, বনগাঁ: পৌষমাসের শেষ মঙ্গলবার ভিড় উপচে পড়ল বনগাঁ কালীতলার মেলায়। বহু দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মায়ের মন্দিরে পুজো দিতে। প্রতি বছর পৌষ মাসের ১ তারিখ শুরু হয় এই মেলা। কয়েকশো বছরের পুরনো এই মেলা ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা থাকে চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন প্রচুর লোক হলেও শনিবার ও মঙ্গলবার মেলায় ভিড় বেশি হয়। এদিন ছিল পৌষমাসের শেষ মঙ্গলবার। ভক্তদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় মন্দির কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনকে। এদিন নদীয়ার বীননগর থেকে মেলায় এসেছিলেন চৈতালি ঘোষ। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই মেলায় আসি মাকে দর্শন করতে। এবারও এসেছি। এখানে মা খুবই জাগ্রত। মায়ের কাছে মানত করলে মনস্কামনা পূরণ হয়।
মন্দির কমিটির সভাপতি পরিতোষ ভট্টাচার্য বলেন, এই বছর পয়লা পৌষ থেকেই ভিড় উপচে পড়েছে। এটা মাসের শেষ মঙ্গলবার হওয়ায় স্বাভাবিক কারণে ভিড় বেশি ছিল। প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো এই সাতভাই কালীতলা মন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরেই শুরু হয় পৌষমেলা। কথিত আছে, এলাকার সাতভাই ডাকাত এক জমিদার বাড়িতে ডাকাতিতে গিয়ে সেখানকার সর্বস্ব লুট করার পাশাপাশি জমিদার বাড়ির কালী মাকে নিয়ে আসে। নিজেদের আস্তানা পুরাতন বনগাঁয় এসে বিরাট বটগাছের নীচে মাকে প্রতিষ্ঠা করে। ডাকাত সাতভাই প্রতিষ্ঠিত কালী মন্দিরটি রাজ্যের অন্যতম পরিচিত কালী মন্দির হিসেবেই পরিচিত। মেলায় রকমারি মনোহারি, খাবারের দোকান, খেলনা, ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পসরা নিয়ে হাজির হন ব্যবসায়ীরা। মেলার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতী নদী। নদীতে নৌকা বিহার মেলার অন্যতম আকর্ষণ। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় ব্যক্তিগত কিংবা সংগঠনের উদ্যোগে খিচুড়ি ভোগ খাওয়ানো হয়। বহু মানুষ ভক্তিভরে সেই ভোগ প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন। পৌষমাস শেষ হলেও আরও কয়েকদিন চলে বনগাঁ কালীতলা পৌষমেলা। নিজস্ব চিত্র