• বারাকপুর কমিশনারেট: ২১ জন ডুবুরিকে সিভিক হিসাবে গঙ্গার ঘাটে নিয়োগ
    বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর মহকুমায় প্রায় ১৫০টি গঙ্গার ঘাট আছে। পুলিশের হিসেবে অনুযায়ী, তার মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি ঘাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর অনেকগুলি দিয়ে ফেরিও চলাচল করে। পাশাপাশি রোজ ঘাটগুলিতে স্নান করেন অনেকে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সেই সব ঘাটে দুর্ঘটনা ঘটছে। এইসব ঘাটগুলিতে জলে ডোবার হাত থেকে যাতে মানুষকে বাঁচানো যায়, সেজন্য ২১ জন স্থানীয় ডুবুরিকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হল। যাঁরা নিয়মিত গঙ্গার ঘাটে স্নান করেন, জোয়ারেও সাঁতার কাটতে পারেন, তাঁদেরই ওই সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই ২১ জনকে কমিশনারেটের তিনটি ডিভিশনে ভাগ করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রত্যেক ডিভিশনে সাতজন করে ভলান্টিয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা গঙ্গার প্রধান ঘাটগুলিতে ডিউটি করবেন। 

    ১৭ ডিসেম্বর সকালবেলা মণিরামপুরের দু’পয়সার ঘাটে দত্তপুরের সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুঁচুড়া যাবার জন্য ফেরিতে উঠতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে গঙ্গায় পড়ে যান। তখন সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার গোরক্ষনাথ দীক্ষিত। তিনি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সঙ্গীতাদেবীকে গঙ্গা থেকে তুলে আনেন। সঙ্গীতাদেবী প্রাণে রক্ষা পেয়ে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে কৃতজ্ঞতা জানান। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

    এরপর ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে সম্মানিত করেন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলিধর শর্মা। তিনি বলেন, স্থানীয় ডুবুরিদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করার ফল আমরা হাতেনাতে পেলাম। একটি মানুষের প্রাণ রক্ষা হল। অনেকে সাঁতার কাটতে গিয়ে বা স্নান করতে গিয়ে গঙ্গায় ডুবে যাচ্ছেন, এমন ঘটনা ঘটছে। তাই যাঁরা গঙ্গায় দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটতে পারেন, স্থানীয়ভাবে ডুবুরি বলে পরিচিত, তেমন ২১ জনকে আমরা সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করেছি। তাঁদেরই মধ্যে একজন ওই অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণে বাঁচিয়েছেন। আমরা গোরক্ষনাথবাবুকে সম্মান জানিয়েছি। তাঁর মতো অন্য সিভিক ভলান্টিয়াররা গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গার ঘাটগুলিতে মোতায়েন থাকবেন। নজরদারি করবেন। ফেরিতে ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের উপর তাঁরা বিশেষ নজর রাখবেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)