• নিপা: তত্পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর, কোনও হেলদোল নেই মধ্যমগ্রামের বাদুড়তলার
    বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের এক নার্সিংহোমের দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এই পর্বে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। তাঁদের দাবি, অযথা এনিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজন সচেতনতা। রোগ মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য সরকার। তৎপরতা শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরও। মঙ্গলবার জেলার সমস্ত বিএমওএইচ ও হাসপাতাল সুপারদের নিয়ে বৈঠক করেন সিএমওএইচ ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত। বৈঠকে প্রত্যেককে বলা হয়েছে মাস্ক, পিপিই কিট, অক্সিজেনের জোগান কত রয়েছে, তা রিপোর্ট আকারে দ্রুত জমা দিন। আর কী কী দরকার, সেই তালিকাও জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে  উপসর্গ থাকা মানুষদের নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, বারাসতে আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে ওই দুই নার্সের সহকর্মীদের। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা হয়েছে। এদিকে, ৩৫ জন সহকর্মীর নমুনা কল্যাণীর এইমসে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সিএমওএইচ বলেন, প্রত্যেককেই রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অ্যাকিউট এনসেফেলাইটিস সিনড্রোম বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে আক্রান্ত হলে তাঁর সংস্পর্শে আসা লোকজনের তথ্য জানাতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। 

    তবে, নিপা ভাইরাস নিয়ে কোনও হেলদোল নেই মধ্যমগ্রামের বাদুড়তলার বাসিন্দাদের। এখানে প্রায় ২০০ বছরের পুরানো একটি বিশাল বটগাছে হাজার দু’য়েক বাদুড়ের বাস। বটগাছকে কেন্দ্র করেই এলাকাটির নাম বাদুড়তলা। আশপাশে কয়েকশো পরিবার যুগের পর যুগ ধরে বাদুড়ের সঙ্গে কার্যত সহাবস্থান করছেন। এই ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের ঠোকরানো ফল বা ফলের রস থেকে ছড়ালেও স্থানীয় বসিন্দাদের মধ্যে তেমন কোনো সতর্কতা লক্ষ্য করা যায়নি। গাছের নীচে স্বাভাবিক যাতায়াত, রান্নাবান্না করা ও দৈনন্দিন কাজ চলছে। মাস্ক ব্যবহার বা বাড়তি সচেতনতার অভাব স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকৎ আলি বলেন, শুনেছি বারাসতে দু’জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমরা বছরের পর বছর ধরে এভাবেই আছি। স্থানীয় বাসিন্দা রোহিত জমাদার বলেন, প্রকাণ্ড বটগাছে আমার বাপ-ঠাকুরদার সময় থেকেই বাদুড় থাকে। ওরা থাকতে থাকতে বিষয়টি আমাদের সয়ে গিয়েছে। নিপায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জেনে কিছুটা ভয় হচ্ছে। এনিয়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, পুরসভার পক্ষ থেকে বাদুড়তলার বটগাছ ঘিরে বায়ো ডাইভারসিটি পার্ক করা হয়েছে। নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে বাদুড়ের প্রভাব আছে বলে শুনেছি। তাই এবার এলাকাবাসীকে সচেতন করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করব। স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করেই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দেওয়া হবে। 

     মধ্যমগ্রামে গাছে ঝুলছে বাদুড়।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)