বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনি: বছর ঘুরলেও হল না নতুন ফ্ল্যাট, কবে মিলবে নিজস্ব আস্তানা!
বর্তমান | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৩/৪৭ ডি, শুভ অ্যাপার্টমেন্ট। বছরখানেক আগেও বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনির এই ঠিকানায় হলুদরঙা চারতলা বিল্ডিং দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মাটিতে বসে গিয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বিল্ডিং। সেই ঘটনায় শোরগোল পড়েছিল শহরে। জানা গিয়েছিল, মাটিতে বসে যাওয়া বিল্ডিং ভুল পদ্ধতিতে তুলতে গিয়েই পুরোটা ভেঙে পড়ে। তারপর এক বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু সেখানে আর নতুন নির্মাণ ওঠেনি। সেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো নয়। রয়েছে প্রোমোটারের অসহযোগিতাও। ফলে সব মিলিয়ে জায়গাটি এখন কার্যত খণ্ডহর! এলাকাবাসীর জঞ্জাল ফেলার জায়গা! মাসের পর মাস মোটা অঙ্কের বাড়িভাড়া গুনছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। আর্থিক অনটন ঘিরে ধরেছে।
সম্প্রতি নেতাজিনগর থানা এলাকার সেই ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেল, ফাঁকা জমিতে ডাঁই হয়ে আছে ভগ্নস্তূপ। একাংশে আগাছার জঙ্গল। রিক্সা, টেম্পো পার্কিং করা রয়েছে। এই এক বছরে কেমন আছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা? ফোনে কথা হচ্ছিল ভুক্তভোগী সাহা পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে। মাথার ছাদ হারিয়ে গোটা পরিবার এখন যেন ছন্নছাড়া! মাসে মাসে মোটা টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে ঘরভাড়া দিতেই। নভেম্বরে তাঁদের মা সুলেখা সাহার লাং ক্যান্সার ধরা পড়েছে বলে জানালেন সুরজিৎ সাহা এবং রূপা চৌধুরি (সাহা)। রূপাদেবী বলছিলেন, ‘ওই ঘটনার পর আমাদের জীবন বদলে গিয়েছে। প্রোমোটার তো ভালোই আছে। ব্যবসা খুলে বসেছে। ভেসে গেলাম শুধু আমরা। আমাদের এত টাকা কোথায় যে নিজেরাই ফ্ল্যাট বানাব! প্রোমোটার জানিয়ে দিয়েছে, কোনও টাকা দেবে না।’ ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই প্রোমোটার বেআইনিভাবে চারতলা বিল্ডিং বানিয়েছিলেন। এখন নিয়ম মেনে বাড়ি বানাতে গেলে তিনতলার বেশি হবে না। আমরা বাসিন্দারাই যদি তিনটে তলার ছ’টা ফ্ল্যাট নিয়ে নিই, তাহলে যে প্রোমোটার ফ্ল্যাট বানাবেন, তাঁর তো আর লাভ হচ্ছে না। তাই নতুন করে কোনও প্রোমোটার আগ্রহও দেখাচ্ছেন না।
যে জমিতে তৈরি হয়েছিল সেই বেআইনি আবাসন, সেই জমির মালিক অভিষেক সরকারও হতাশ। তাঁর কথায়, ‘ফ্ল্যাট নতুন করে বানানোর জন্য তো সবার সহমত প্রয়োজন। তাড়াছা, আমরা যাঁরা ফ্ল্যাটে থাকতাম, তাঁদের নতুন বিল্ডিং বানানোর সামর্থ্য নেই। প্রোমোটারকে বলা হয়েছিল, অন্তত বাড়ির স্ট্রাকচার বা কাঠামো উনি বানিয়ে দিলে আমরা ফ্ল্যাট মালিকরা যে যাঁর সামর্থ্য মতো ভিতরের যাবতীয় কাজ সেরে ফেলব। কিন্তু প্রোমোটার তাতেও সাড়া দিচ্ছেন না। বেশ কয়েকজন নতুন প্রোমোটারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছুই এগচ্ছে না। জানি না, আর কতদিন এভাবে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হবে।’
২০২৫ সালের এই ঘটনার পর মামলাও হয়। তারপর যে কোনও হেলে পড়া বা বসে যাওয়া বাড়ি সোজা করতে দক্ষ সংস্থাকে চিহ্নিত করে পুরসভা, যাতে ভবিষ্যতে এমন সমস্যা হলে ওই সংস্থাকে নিয়োগ করা যেতে পারে। কিন্তু, বছর ঘুরলেও অথৈ জলেই পড়ে রয়েছে বিদ্যাসাগর কলোনির শুভ অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষতিগ্রস্ত ছ’টি পরিবার।