• ফের কলতানে মুখর 'বার্ড পয়েন্ট', কিচিরমিচিরে কান পাতা দায়
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, দিঘা: প্রতি বছর শীতে দিঘার বার্ড পয়েন্ট মৎস্য খামারে ভিড় জমাত পরিযায়ী পাখিরা। কিন্তু গত কয়েক বছরে উপযুক্ত বাসস্থানের অভাবে মুখ ফিরিয়েছিল ওরা। চলতি বছরে আবার ওদের কলতানে মুখরিত হচ্ছে সৈকত নগরী। গত কয়েক দিনে দিঘার সৈকত ও মৎস্য খামারে ওদের কিচিরমিচিরে কান পাতা দায়। কখনও বিলের জলে মাছ শিকার করছে, কখনও খাবার নিয়ে নিজেরাই কাড়াকাড়ি করছে। পানকৌড়ি, সাদা বক, পাতিহাঁস, সবুজ বাঁশপাতি, খড়হাঁস, নিশিবক, মাছরাঙা, সারসদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে রয়েছে এলাকা।

    সৈকতে বসে ঢেউয়ের ভাঙাগড়া দেখার মাঝেই পর্যটকদের মন কাড়ছে এই বার্ড পয়েন্ট। ডিসেম্বরের শেষ থেকেই জাঁকিয়ে শীত পড়েছে দক্ষিণবঙ্গে। সামনেই প্রজাতন্ত্র দিবসের লম্বা উইকএন্ড। পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই দিঘায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। সৈকত ছাড়াও এখন জগন্নাথ মন্দিরে পর্যটকরা ভিড় করছেন। তবে এ বার পর্যটকদের নজর কাড়ছে বার্ড পয়েন্ট। দিঘার সৈকত ও মৎস্য খামারে এ বার বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে বলে দাবি সেখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীদের। একসময়ে ঝাউ, কেয়ার জঙ্গলে ঘেরা দিঘার সৈকত ও মৎস্য খামারে সারা বছর ধরে ভিড় জমাত নানা প্রজাতির পাখি। মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শীতকালে পাখিদের ভিড় দেখেই দিঘার মৎস্য খামারকে বার্ড পয়েন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু খাদ্য সঙ্কট ও বাসস্থান সঙ্কটে গত কয়েক বছরে এই মৎস্য খামারে পাখিদের আনাগোনা একেবারেই কমে গিয়েছিল।

    গত দু'বছরে তেমন ভাবে কোনও পাখির দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মীরা। চলতি বছরেই খামার সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। তারপরেই ফের পাখিদের ভিড় দেখা গিয়েছে বলে দাবি। সৈকত নগরীতে ঢোকার মুখে দিঘা গেটের পাশ দিয়ে মেরিন ড্রাইভধরে বাঁ দিকে দক্ষিণপূর্বে কয়েক মিনিট হেঁটে গেলেই পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ফিশারি এলাকা ও অফিস। প্রায় ৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে সমুদ্রের পাশে ছোট বড় পুকুর ঝিল ও জলাশয়ে নানা ধরনের মাছের চাষ হয়। আর জলাশয়ের পাশে রয়েছে ছোটবড় গাছগাছালি ও ঝোপঝাড়।

    ফিশারি এলাকার মধ্যে এই সব গাছ ও জলাশয়ে এখন পারিযায়ী পাখিদের কলতান শোনা যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি হরেক কিসিমের পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত হচ্ছে দিঘার বার্ড পয়েন্ট। ফিশারির ছোট ছোট মাছ দেশি-বিদেশি পাখিদের প্রিয় খাবার বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মীরা। পাখিরা মাছ খেলেও ফিশারি কর্মীরা বাধা দেন না। শুধু তাই নয়, চোরাশিকারিরাও যাতে পাখিদের কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সে দিকেও নজর রাখেন তাঁরা। মৎস্য খামারের প্রজেক্ট ইনচার্জ বলাইলাল করণ বলেন, 'এ বছর টানা শীতের কারণে পরিযায়ী পাখিদের আনগোনা বেড়েছে। অনেক পর্যটকও এখন পাখি দেখতে মৎস্য খামারে আসছেন।' কাঁথি বন দপ্তরের রেঞ্জ অফিসার অতুলপ্রসাদ দে বলেন, 'শুধু মৎস্য খামার নয় ম্যানগ্রোভ এলাকায়ও পাখিরা আসতে শুরু করেছে। দিঘা মেরিন ড্রাইভের পাশে নায়কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বনদপ্তর ম্যানগ্রোভঅরণ্য গড়ে তুলেছে। সেখানেও পরিযায়ীরা ধীরে ধীরে ভিড় করছে।'

  • Link to this news (এই সময়)