তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় আরও ২০০ পথকুকুরকে লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে খুনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে ওই রাজ্যে ৫০০ কুকুরকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। তেলঙ্গানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে, ডিসেম্বরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সবর হয়েছে ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’-সহ একাধিক পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কামারেড্ডি জেলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, গত বছরের ডিসেম্বরে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে একাধিক প্রার্থী কুকুর ও বানরের উপদ্রব কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই গ্রাম থেকে কুকুর তাড়ানোর পরিবর্তে তাদের মেরে ফেলার ছক কষা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, মৃত কুকুরগুলিকে গ্রামের বাইরে পুঁতে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পশু চিকিৎসকদের একটি দল ইতিমধ্যেই দেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। কী ধরনের ইঞ্জেকশন দিয়ে পথকুকুরদের মারা হয় তা জানতে ফরেনসিক ল্যাবের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদেরও ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়েছেন তদন্তকারীরা।
করিমনগরের ‘স্ট্রে অ্যানিম্যাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে স্বেচ্ছাসেবী এক সংস্থার প্রতিনিধি আদিলাপুরম গৌতমের অভিযোগ, কামারেড্ডি জেলায় পালওয়ানচা এলাকার প্রায় পাঁচটি গ্রামে গত দুই থেকে তিন দিনে প্রায় ২০০ পথকুকুরকে লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এর আগেও ৬ থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ৩০০ পথকুকুরকে লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল হানুমকোন্ডা জেলার শ্যামাপেট ও আরেপাল্লি পঞ্চায়েত এলাকায়।
হানুমকোন্ডাতে মহিলা সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েত প্রাধান ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে পথকুকুরদের খুনের অভিযোগ ওঠে। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পেশাদার লোক ভাড়া করে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে এই কাজ করা হয়েছে। একাধিক গ্রামে ঘুরে কুকুরদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পশু নিষ্ঠুরতা বিরোধী আইনের সাহায্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, কুকুর কামড়ানোর ঘটনায় রাজ্যগুলোকে মোটা টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যাঁরা পথকুকুরদের রাস্তায় নিয়মিত খেতে দেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করতে পারে শীর্ষ আদালত।