• সংক্রান্তিতে দেদার বিকোচ্ছে তিলকুট, বিহারি কারিগরদের হাতের জাদুতে মজেছে কলকাতা
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • মকর সংক্রান্তিতে পাতে এক টুকরো মুচমুচে তিলকুট না হলে যেন চলেই না কলকাতাবাসীর। বাঙালির পাতে সেই স্বাদ পৌঁছে দিতে বিহার থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কলকাতায় এসেছেন একদল দক্ষ কারিগর। গয়া, জেহানাবাদ এবং পাটনা থেকে আসা কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় এখন কলকাতার অলি-গলি ম ম করছে তিলকুটের গন্ধে। প্রতি বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বিশেষ করে মকর সংক্রান্তিতে এই মিষ্টির চাহিদা থাকে তুঙ্গে।

    উত্তর কলকাতার নতুন বাজার এলাকায় প্রায় ৫০ জন কারিগর দিনরাত এক করে তৈরি করছেন তিলকুট। আগে বিহার থেকে তৈরি তিলকুট আসত কলকাতায়। কিন্তু তাতে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকত। সেই কারণেই বিহারের একাধিক ব্যবসায়ী কলকাতায় কারিগর নিয়ে এসে তিলকুট বানান। এতে গ্রাহকরা যেমন টাটকা তিলকুট পান, তেমনই দামও থাকছে নাগালের মধ্যে। চিনির তিলকুট ১৬০ টাকা কেজি এবং গুড়ের তিলকুট ২০০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে।

    তিলকুট তৈরির কারিগররা জানিয়েছেন, প্রতি বছর নভেম্বর মাসে তাঁরা বিহার থেকে কলকাতায় আসেন। সংক্রান্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কলকাতাতেই থাকেন। একজন কারিগর এই মরশুমে প্রায় ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এখন কলকাতার জানবাজার থেকে শুরু করে বড়বাজারের একাধিক দোকানে চিঁড়ে, গুড় আর তিলকুটের মেলা।

    বিহারের তিলকুট কারিগর ও ব্যবসায়ী বিনোদকুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, ২০০৭ সাল থেকে তিনি কলকাতায় এসে তিলকুটের ব্যবসা করছেন। অন্য এক তিলকুট কারিগর বিজয় যাদব জানিয়েছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলে হাড়ভাঙা খাটুনি। তবে সংক্রান্তির কাজ শেষ হলেই তাঁরা ফিরে যান বিহারে।

    কেবলমাত্র শহর কলকাতা নয়, তিলকুট এখন পাড়ি দিচ্ছে গোয়া, তেলঙ্গানা, অসম-সহ একাধিক রাজ্যে। মকর সংক্রান্তিতে প্রবাসীদের কাছেও তিলকুট বেশ জনপ্রিয়। আধুনিকতার মাঝেও পৌষ সংক্রান্তির স্বাদ পেতে তিলকুটের দোকানে সাধারণ মানুষের ভিড় এখন চোখে পড়ার মতো।

  • Link to this news (এই সময়)