• নিপায় আক্রান্ত ২ নার্সের সংস্পর্শে আসা ৯০ জন চিহ্নিত, পাঠানো হল কোয়ারেন্টাইনে
    আজ তক | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV) দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এই দুই আক্রান্ত নার্সের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা প্রায় ৯০ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সকলকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা আরও কারও খোঁজে নজরদারি চলছে। দুই নার্সের মধ্যে একজন বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এবং অন্যজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ওই হাসপাতালেই তাঁরা কর্মরত ছিলেন।

    সোমবার সন্ধেয় মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহের কথা প্রথম জানান। পরে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানান, নিশ্চিতকরণের জন্য নমুনা পুনের NIV-এ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ভাবে জানানো হয়, পরীক্ষায় দুই নার্সের শরীরেই নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।

    স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংক্রমিত নার্সদের পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের সেবায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীরাও ওই ৯০ জনের তালিকায় রয়েছেন। যাঁরা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে এবং দিনে দু’বার করে স্বাস্থ্যগত অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত তাঁদের কারও শরীরে নিপা সংক্রমণের কোনও উপসর্গ ধরা পড়েনি।

    নিপা ভাইরাসে আক্রান্তদের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি ভাবা হলেও, রোগীদের শারীরিক অবস্থা ও দূরত্বের কথা মাথায় রেখে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। বারাসত হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রোটোকল পাঠানো হয়েছে এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা নজরদারি করছেন।

    স্বাস্থ্য দফতর একাধিক জেলায় নজরদারি শুরু করেছে এবং হাসপাতালগুলির জন্য একটি বিস্তারিত কোয়ারেন্টাইন প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ‘ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ’ বলতে কাদের বোঝানো হবে এবং কারা উচ্চ ও কম ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিপা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে এলে অন্তত ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইরাস মূলত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, তবে দীর্ঘ সময় সংস্পর্শে থাকলে মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমণ হতে পারে। লক্ষণ হিসেবে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথা দেখা দেয়, পরে স্নায়বিক জটিলতা ও এনসেফালাইটিসের আশঙ্কা থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাবের মাধ্যমে তা দূষিত হতে পারে। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। 

     
  • Link to this news (আজ তক)