ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানি-পর্বে যথেচ্ছাচার চলছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সরব হল সিপিএম-ও। এসআইআর ঘিরে নানা বেনিয়মের অভিযোগে রাজ্য জুড়ে বিডিও দফতরের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিল তারা। পাশাপাশি, বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে বামফ্রন্টের ভিতরের ও বাইরের দলের সঙ্গে সিপিএমের আসন সমঝোতার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলীয় দফতরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মঙ্গলবার দাবি করেছেন, যে যে যুক্তিতে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তার প্রতিটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। প্রতিটি ব্লকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে বৈঠক চেয়ে ফের চিঠি দিচ্ছে সিপিএম। সেলিম তথ্য দিয়েছেন, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের একাধিক বুথের এক একটিতে ৫০০-র বেশি ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নদিয়ার পলাশিপাড়ায় বিভিন্ন বুথের প্রতিটিতে ৩০০-৪০০ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেলিমের দাবি, ‘‘প্রান্তিক বা বিপন্ন অংশের মানুষ, মহিলা, পরিযায়ী, মুসলিমদের ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। বিধানসভাগুলির যে তালিকা বেরিয়েছে, যাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে। আরএসএস-বিজেপির দর্শন হল, বিভিন্ন অংশকে ‘টার্গেট’ করে বাদ দেওয়া। কমিশন সেই দর্শন অনুযায়ী কাজ করছে, এমন মনে করার অবকাশ আছে।’’
সিপিএমের অভিযোগ, সামান্য কারণে পাঠানো হচ্ছে নোটিস। নামের বানান ভুল, কার ক’জন সন্তান, এ সব কারণ ধরা হচ্ছে! যেমন অমর্ত্য সেনকে পাঠানো হয়েছে নোটিস। সেলিমের কথায়, ‘‘সমাজের নানা অংশে নানা বৈচিত্র রয়েছে। যেমন, কোনও মুসলিম মহিলার নাম তিন বার বদলাতে পারে। অবিবাহিত অবস্থায় ‘খাতুন’, বিবাহিত হলে ‘বেগম’ বা ‘বিবি’ এবং বিধবা হলে ‘বেওয়া’। এমন ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টকে সন্দেহের আওতায় ফেলা হচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে ৬ ব্যক্তি যদি বাবার একটি নাম ব্যবহার করেন, তা হলে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এগুলির অর্থ কী?’’ তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়েরও তো বহু সন্তান ছিল! কমিশনের কাজ ‘সন্দেহজনক’।
সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এ দিনই সিপিএমের সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আইএসএফ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। সিপিএম সূত্রের বক্তব্য, আইএসএফ বা কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে সমঝোতায় এলে ফ্রন্টের দলগুলিকে কিছু আসন রদবদলের জন্য তৈরি থাকতে হবে। কোন কোন দল সমঝোতায় থাকছে, তার উপরেই নির্ভর করবে আসন বণ্টন।