• ভাড়া দিয়ে জোর বিপাকে সিপিএম, তিনতলা পার্টি অফিস এখন ছাড়ছে না ভাড়াটিয়া
    ২৪ ঘন্টা | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • অরূপ লাহা: ভাড়াটিয়া না ছাড়ায় বিপাকে সিপিএম। দলের গুসকরার পার্টি অফিস ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। তহবিলের অভাবে একসময় নিজেদের পার্টি অফিস ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছিল সিপিএম। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই এখন দলের কাছে বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা শহরের সিপিএমের তিনতলা পার্টি অফিস ‘রবীন সেন ভবন’ ফেরত পেতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। ভাড়াটিয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভবন খালি না করায় গোটা জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘটনাটি ঘটেছে গুসকরা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লজপাড়ায় অবস্থিত সিপিএমের এই তিনতলা পার্টি অফিসকে ঘিরে।

    ১৯৯৯ সালের মে মাসে প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর হাত ধরে ভবনটির উদ্বোধন হয়। দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকেই গুসকরা শহরে সিপিএমের সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালিত হত। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিপিএমের সংগঠন দুর্বল হতে শুরু করে। আর্থিক সংকট কাটাতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গুসকরার বাসিন্দা ও পেশায় প্রোমোটার স্বপন পালকে চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় ভবনটি লিজ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভাড়াটিয়া ভবনটি দলের হাতে ফেরত দেয়নি।

    গুসকরা শহর সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখ জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাড়াটিয়াকে ভবন ছাড়ার কথা জানানো হয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় লিজের মেয়াদ আর না বাড়ানোরএ  সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভবন খালি করে বকেয়া ভাড়া মিটিয়েএবং এ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন ফেরত না পেলে দল পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

    অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া স্বপন পাল বলেন, তিনি একাধিকবার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিজ নবীকরণের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, লিজ নবীকরণ হলে তিনি সমস্ত বকেয়া ভাড়া মিটিয়ে দিতে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মমাফিক ভাড়া দিতে প্রস্তুত। চুক্তির মেয়াদকালে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধএ করেছেন বলেও তাঁর দাবি, যার রসিদ তাঁর কাছে রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর পর শহরের একাধিক জায়গায় পার্টি অফিস থাকায় এই ভবনটি ভাড়া দিয়ে দলের খরচ তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই এখন সিপিএম নেতৃত্বের কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেএ সিপিএমকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম বলেন, “সিপিএম পুঁজি বোঝে বলেই পার্টি অফিস ভাড়া দিয়েছিল। এখন সেই পুঁজির খেলাতেই তারা আটকে গেছে। ওদের সংগঠন দুর্বল, লোক নেই। তবে যদি সিপিএম আমাদের সহযোগিতা চায়,তাহলে পৌরসভার তরফে বিষয়টি দেখতে পারি।” সব মিলিয়ে গুসকরার রাজনৈতিক মহলে সিপিএমের পার্টি অফিস বিতর্ক এখন অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)