• উচ্চবর্ণের পড়শির অসভ্যতায় আপত্তি, পিটিয়ে খুন দলিতকে
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • লখনৌ: উঁচু বংশের প্রতিবেশী গোবিন্দ সিং মদ্যপ হয়ে বিনা কারণে চড়াও হয় পড়শি দলিত কৃষকের বাড়িতে। সেই কৃষক ও তাঁর স্ত্রী তা নিয়ে আপত্তি করলে দু’পক্ষের মধ্যে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। ফলত, দেবকীনন্দন পাসোয়ান নামে বছর ৫০–এর ওই কৃষককে পিটিয়ে মেরেই ফেলে গোবিন্দ ও তার আত্মীয়রা বলে অভিযোগ। ওই দম্পতির মেয়ের এফআইআর–এর ভিত্তিতে কানপুর দেহাত জেলার এই ঘটনায় গোবিন্দ সিং ও তাঁর স্ত্রী-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় দেবকীনন্দন আহত অবস্থায় মারা যান। ওই একই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মমতা পাসোয়ানও আহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় মালিকপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মত্ত গোবিন্দ সিং তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে ওই কৃষকের বাড়িতে এসে তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করে। এতে দেবকীনন্দন ও তাঁর স্ত্রী আপত্তি জানালে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। নিহতের মেয়ের দাবি, ওইখানে ঘটনার সময়ে গোবিন্দের স্ত্রীও উপস্থিত ছিল। সে তার ভাই ও আরও কয়েক জন আত্মীয়কে খবর দিয়ে ডেকে আনে সেখানে। তার পরে সকলে মিলে ওই কৃষক দম্পতিকে পেটাতে থাকে। অভিযোগ, ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ড করতে গেলে দেবকীনন্দনের মেয়ে গোমতী–ও অভিযুক্তদের দ্বারা আক্রান্ত হন ও তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় তারা।

    খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে কাছের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কানপুরের সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কৃষকের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথমিক ভাবে ভাবে জানা গিয়েছে যে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

    দেবকীনন্দনের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে পরে অভিযান চালিয়ে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শিবলি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার প্রবীণ কুমার সিং জানান, এই ঘটনায় এফআইআরে নাম থাকা দুই অভিযুক্ত–সহ তাদের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল এফআইআর–এ শারীরিক নিগ্রহের ধারা থাকলেও দেবকীনন্দনের মৃত্যুর পরে তাতে বিএনএস–এর খুনের ধারাও যোগকরা হয়েছে।’

    পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)