• ‘আসছে বছর আবার এসো মা’, মকর সংক্রান্তিতে টুসু বিদায় রাঢ় বাংলায়
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • পৌষের শেষ দিনে মন খারাপের সুর রাঢ় বাংলায়। এক মাস ধরে ঘরের মেয়ের মতো আদর যত্নের পরে মকর সংক্রান্তিতে টুসুর বিদায়। বুধবার সকাল থেকেই লাল মাটির পথে দেখা গিয়েছে টুসুর চৌডল নিয়ে শোভাযাত্রা। এ দিন গ্রামের মহিলারা নাচ-গানে এলাকার জলাশয়ে বিসর্জন দিয়েছেন টুসুকে। সকলের একটাই প্রার্থনা, ‘আসছে বছর আবার এসো মা’।

    টুসু উৎসব আসলে রাঢ় বাংলার মানুষের বেঁচে থাকার রসদ। তাঁদের হাসি-কান্না আর রোজের গল্প লুকিয়ে থাকে টুসুর গানে। পৌষের শুরুতে নতুন মাটির পাত্রে ধানের তুষ আর ফুল দিয়ে সাজানো হয় টুসুকে। বাঁশ, কাঠ, রং-বেরঙের কাগজ, প্লাস্টিক, আঠা, দিয়ে প্রাসাদের আকারে তৈরি করা হয় চৌডল। তার উপরে বসানো হয় টুসুকে। তবে চৌডল তৈরি হয় বিসর্জনের আগের রাতে।

    পৌষের প্রতি সন্ধ্যায় গ্রামের মহিলারা একজোট হয়ে ধরেন টুসু গান। এই গান কোনও বইয়ে লেখা নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লোকমুখেই বেঁচে রয়েছে টুসু গান। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গানের সুরে সমাজ ও রাজনীতির নানা কথা মিশে গেলেও আন্তরিকতা আজও একই রকম রয়ে গিয়েছে।

    পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে পালন হয় টুসুর জাগরণ। সারা রাত জেগে গ্রামের মহিলারা গান আর গল্পের আসরে আগলে রাখেন টুসুকে। মকর সংক্রান্তির দিন সকালে বিসর্জন হয় টুসুর। ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও রাঢ় বাংলায় স্বমহিমায় উজ্জ্বল টুসু উৎসব। বিসর্জনের পরে ফের এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকেন রাঢ় বাংলার মানুষ।

  • Link to this news (এই সময়)