• ‘যা জ্বাল হয়, বিষও জল হয়ে যাবে’, নিপা নিয়ে বলছেন গুড় উৎপাদকরা, সহমত চিকিৎসকরাও
    এই সময় | ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: কেউ বলছেন, ‘এই সময়েই আসতে হলো!’ কেউ বলছেন, ‘ও আগুনের যা তাপ, বাঁচার কোনও চান্স নেই।’ ঘরে ঘরে যখন মকর সংক্রান্তিতে রকমারি পিঠে বানানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন বাদুড়–বাহিত নিপা ভাইরাসের আচমকা আগমনে আশা–নিরাশার দোটানায় পড়ে গিয়েছেন অনেকেই। তবে খেজুর রস থেকে যাঁরা নলেন গুড় বানান, একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁরা বলছেন, ‘অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। অত সময় রস ফুটলে ভাইরাস থাকতে পারে না।’ চিকিৎসকরাও বলছেন একই কথা। তাঁরা অবশ্য গাছ থেকে পেরে আনা খেজুর রস না–খাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন।

    মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তি মানেই বাংলার ঘরে ঘরে আয়োজন পিঠে–পুলির। তার অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর রস থেকে তৈরি নলেন গুড়, পাটালি গুড়। বাকি রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও পুরুলিয়ার বাজারের পর বাজার জুড়ে সেই গুড়ের মেলা। যেখানে খেজুর গাছের চাষ হয়, সেই সব জায়গায় সকাল থেকেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত বহু মানুষ। তাঁরা শুনেছেন নিপা ভাইরাসের কথা। বাঁকুড়ার বড়ডোড়ার কাঁটাবাঁধ গ্রামের নবি হোসেন মণ্ডল, ওই জেলার সোনামুখী ব্লকের পিয়ারবেড়া গ্রামের মুক্তার হোসেন, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী এলাকার হিরো কৈবর্ত্য, শিবু দাস, আলি শেখ, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সাতাশা এলাকার স্বপন ঘরামি, সবারই ঘুরেফিরে একই কথা— ‘গুড় তৈরির সময়ে যে ভাবে জ্বাল দেওয়া হয়, তাতে বিষও জল হয়ে যাবে।’

    তবে ক্রেতাদের নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন গুড়ের উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। এমন এক উৎপাদক নিত্যগোপাল মণ্ডল বলেছেন, ‘মকড় সংক্রান্তির জন্য প্রচুর গুড় বানিয়ে রেখেছি। সংক্রমণের ভয়ে বিক্রি না হলে বিপদে পড়ব।’ আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘এখনও বিক্রিতে প্রভাব পড়েনি। পরে কী হবে, জানি না।’ ক্রেতাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, তাঁরাও বেশিরভাগই মনে করছেন, ফোটানো রস থেকে তৈরি গুড়ে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা নেই। বড়জোড়ার বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য পাল বলেছেন, ‘রস যা জ্বাল দেয়, তার কাছে ভাইরাস–টাইরাস কিছু না।’ দুর্গাপুরের সুভাষ পল্লির বাসিন্দা রাজকুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘খেজুর রস খেলে অসুবিধা হতে পারে। গুড়ে সমস্যা নেই।’ আসানসোলের নীহার সেন বলেছেন, ‘রস থেকে সংক্রমণ ছড়ালেও গুড়ে কোনও বিপদ নেই বলেই জানলাম।’

    এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর তথা প্রশাসন। বড়জোড়ার বিডিও কার্তিক চন্দ্র রায়, কালনার মহকুমাশাসক অহিংসা জৈন বলেছেন, ‘আমরা কড়া নজর রাখছি।’ পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিএমওএইচ শেখ মহম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সতর্ক রয়েছি। তবে নলেন গুড়ে সংক্রমণ হবে না। কারণ, খেজুর রস ফুটিয়ে গুড় তৈরি করা হয়।’ বাঁকুড়া জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (টু) দেবব্রত দাস বলেছেন, ‘প্রতি ব্লকে বিএমওএইচদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’ সঙ্গে তাঁদের সবারই পরামর্শ, ‘এখন খেজুর রস এড়িয়ে চলাই ভালো। আর জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে।’

  • Link to this news (এই সময়)