বাঁকুড়া শহর থেকে কুড়ি কিমি দূরে কেঞ্জাকুড়া গ্রামে দারকেশ্বর নদীর চরে পয়লা মাঘ থেকে চার দিন ধরে এই মুড়ি মেলা হয়। শেষের দিন খুব জাঁকজমকভাবে এই মুড়ি-মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কাতারে কাতারে মানুষ বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসে। নদীর চরে গিয়ে পরিবারের লোকজন , বন্ধুবান্ধব একসঙ্গে বসে মুড়ি খায়। গামছা বা কাপড়ের টুকরোর উপর মুড়ি মাখায়। মুড়ির সঙ্গে থাকে আলুর চপ, বেগুনি, কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ, টমেটো, শশা,বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, চানাচুর ইত্যাদি।
তারপর একসঙ্গে মিশিয়ে সবাই মিলে খাওয়া হয়। বাড়িতে অনেক সময় এক সঙ্গে বসে খাওয়া হয় না তাই এই দিনটির জন্য সবাই অপেক্ষা করে। একেবারে পিকনিকের মত করে সবাই আনন্দ করে। তবে এখানে পানীয় জল সংগ্রহ করাও খুব আকর্ষণীয়। নদীর মাঝে বালি সরিয়ে গর্ত করে জল সেঁচে একটুখানি অপেক্ষা করতে হয় । বালিতে জল ভালো ফিল্টার হয় এটা আমরা প্রাচীনকাল থেকেই জেনে আসছি। তারপর পরিষ্কার জল উপরে উঠে এলে মগে করে নিয়ে বড় পাত্রে রাখা হয়। জল সংগ্রহ করতে বাচ্চারা খুব আনন্দ করে।
এই মুড়ি মেলা ২০০ বছরের পুরনো একটা রীতি। এই মুড়ি মেলার সাধারণত হয় সঞ্জীবনী মায়ের সংকীর্তনকে নিয়ে । সাধারণত কথিত আছে যে সঞ্জীবনী মাতার সংকীর্তন শুনতে আসা লোকজন রাত্রে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন না। তাই এখানেই থেকে যেত। সে কারণেই সবাই সঙ্গে করে মুড়ি ও বাতাসা নিয়ে আসতো। পরের দিন সকালে নদীর চরে মুড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরত। সেই থেকেই মুড়ি মেলার প্রচলন। তবেই মুড়ি মেলা এখন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে । প্রতিবছর পয়লা মাঘ থেকে শুরু হলেও ৪ঠা মাঘ লোকজন নদীর চরে এসে ভিড় জমায়। এই দিন সঞ্জীবনী মাতার খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয়। ৭৫ থেকে ৮০ হাজার মানুষ এই খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণ করেন। লোকজন এই প্রসাদকে ভগবানের আশীর্বাদ হিসেবে মনে করে।