অরূপ বসাক: বাজার থেকে ফিরে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আর ফেরা হল না। গত ১১ জানুয়ারি, রবিবার সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি শান্তি কলোনির আইটিআই কলেজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রেখা সরকার (বয়স আনুমানিক ৩০) ও তাঁর তিন বছরের কন্যা। ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে প্রতিদিনের মতোই বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন রেখা সরকার। কোলে ছিল তাঁর ছোট মেয়ে। বাড়িতে রেখে যান ছেলেকে। যাওয়ার আগে ছেলের হাতে ১০০ টাকা দিয়ে বলেন, 'আমি একটু পরেই ফিরে আসবো।' কিন্তু সেই 'একটু পরেই' আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যে, তারপর রাত- কিন্তু মা ও মেয়ের কোনও খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। স্বামী সদাই সরকার সেদিন কাজে ছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে স্ত্রীর খোঁজ না পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। মোবাইলে প্রথম দিকে রিং গেলেও পরে ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে সদাই সরকার জানান, 'কোনওদিন ভাবিনি এটাই ওদের সঙ্গে শেষ দেখা হবে। ও যদি কোথাও থাকে, শুধু একবার ফোন করুক। আমি নিজে গিয়ে ওদের ফিরিয়ে আনব।'
পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে মোবাইল ফোন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও এমন কোনও সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত আগে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পিছনে কী কারণ, তা নিয়ে পরিবারও ধন্দে রয়েছে। ননদ দীপা সরকার জানান, রাতে তাঁর মেয়ে লক্ষ্য করে যে রেখা সরকারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট অনলাইনে ছিল। মেসেজ পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত দু’বছর ধরে রেখা সরকার RCM-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর পরনে ছিল গোলাপি রঙের কুর্তি বা জামা। শেষ পর্যন্ত পরিবার মাল থানায় লিখিত নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আজও বাড়ির দরজার দিকে তাকিয়ে রয়েছে একটি শিশু—মা ফিরবে কি না...
অন্যদিকে, মাল ব্লকের বড়দিঘি রেলগেটে ফের চরম ভোগান্তির ছবি সামনে এল। প্যাসেঞ্জার ট্রেন পার হওয়ার পরও প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রেলগেট বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন চলে যাওয়ার পরও রেলগেট না ওঠায় প্রথমে যান্ত্রিক ত্রুটি বলেই ধরে নেন পথচারীরা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। গেটের দু’পাশে আটকে পড়ে স্কুল বাস, নিত্যযাত্রী, পথচারী এমনকি রোগীবাহী গাড়িও। স্কুলফেরত ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী রোগীদের সমস্যায় পড়তে হয় সবচেয়ে বেশি।
রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে গেট খোলার চেষ্টা চালালেও সফল হননি। পরে রেল কর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে কর্মী এসে গেট খুলবেন। ততক্ষণে রেলগেটের সামনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বিশৃঙ্খল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বড়দিঘি রেলগেটে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বারবার রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান করা হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে প্রায় এক ঘণ্টা পর রেল কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।