জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শীতের সকালে শহর যখন বড়দিনের সাজে সেজে উঠেছিল, তখনই অন্য এক উষ্ণতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাক্তনীরা। জেসুইট প্রাক্তনীরা 'মেন অ্যান্ড উইমেন ফর অ্যান্ড উইথ আদার্স' ভাবনার আলোকে ১৫ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত 'লেটস শেয়ার অ্যান্ড কেয়ার' কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল প্রাক্তনীরা। এই উদ্যোগে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ ও শিশুদের জীবনে ছুঁয়ে গিয়েছে ভালোবাসার স্পর্শ।
এই মহতী প্রয়াসের নেতৃত্বে ছিলেন রেভারেন্ড ড. ডমিনিক সাভিও, এসজে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের অধ্যক্ষ ও SXCCAA-র সভাপতি। ১৮ ডিসেম্বর কলেজ প্রাঙ্গণে বড়দিনের সূচনা হয় 'কলেজ ক্রিসমাস মিট'-এর মাধ্যমে। মানোভিকাশ কেন্দ্র, আনন্দঘর (সোনারপুর) ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার দেবীপুর গ্রামের স্কুল থেকে আসা ৫০ জন বিশেষভাবে সক্ষম শিশুর উপস্থিতিতে উদ্বোধন হয় ক্রিসমাস ক্রিবের। ফাদার সাভিও নিজে হাতে উপহার তুলে দেন শিশুদের।
২০ ডিসেম্বর সকালে ফাদার অধ্যক্ষ পৌঁছন সেন্ট জোসেফস ওল্ড এজ হোমে, যেটি পরিচালনা করেন লিটল সিস্টার্স অফ দ্য পুওর। SXCCAA-র উইমেনস ফোরামের সদস্যারা দিনভর গান, ক্যারল, কেক কাটা ও আড্ডার মাধ্যমে প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি হোমের সংস্কারের জন্য আর্থিক অনুদান ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়।
২১ ডিসেম্বর ছিল এই উদ্যোগের মূল দিন। সেদিন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের রঘবপুর ক্যাম্পাস ও পাইখালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছন SXCCAA-র ফিলানথ্রপি টিম, যাঁদের পরিকল্পনায় ছিলেন মাননীয় সচিব শ্রী সঞ্জীব কোণার। ফাদার সাভিওর নেতৃত্বে জেসুইট ফাদার, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও বর্তমান পড়ুয়ারা একত্রে দেবীপুর, শালপুকুর, মগুরখালি, বাকেশ্বর-সহ আশপাশের ৬-৭টি গ্রামের শিশু ও প্রবীণদের হাতে তুলে দেন গুডি ব্যাগ, উপহার, স্টেশনারি, কেক, চকোলেট, সোয়েটার, হুডি, কম্বল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
এই উদ্যোগ থেমে থাকেনি শহর বা কলেজ ক্যাম্পাসে। SXCCAA-র ফিলানথ্রপি টিম পৌঁছে গিয়েছে কালনার খ্রিস্ট সেবা আশ্রম, পাণ্ডুয়ার সেন্ট জেভিয়ার্স হোম, হরিনাবির 'বোধনা', 'সৈশব' ও 'সৃজন'-এর মতো এনজিওতেও। প্রতি বিকল্প দিনে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে রওনা দিচ্ছে সাহায্যের ট্রাক, ফ্ল্যাগ অফ করছেন ফাদার অধ্যক্ষ, সহ-অধ্যক্ষ, অ্যালামনাই অফিস বেয়ারার ও সদস্যরা।
'নিহিল আল্ট্রা' এই জেভেরিয়ান মন্ত্রে বিশ্বাস রেখে SXCCAA দেখিয়ে দিল, ছোট ছোট ভালোবাসার কাজই বদলে দিতে পারে সমাজের চেহারা। প্রত্যেক সদস্য হয়ে উঠলেন একেকজন 'সিক্রেট সান্তা'। মাদার তেরেসার সেই বাণী,'তুমি কতটা করছো তা নয়, বরং কতটা ভালোবাসা দিয়ে করছো সেটাই আসল',এই বার্তাই যেন প্রতিফলিত হল এই উদ্যোগে।