• নীরবে চলে গেলেন পর্দার অমল 'অসুর'
    আজকাল | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: নীরবেই চলে গেলেন 'অমল অসুর'। আর শেষ হয়ে গেল দূরদর্শনের সোনালি যুগের সেই পরিচিত এবং জনপ্রিয় এক অধ্যায়। মহালয়ার ভোরে যাঁকে অসুর রূপে দেখতে বাঙালি অপেক্ষা করে থাকতেন এবং তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতেন দেবী দুর্গার সঙ্গে তাঁর সেই চিরন্তন লড়াই। ছোটপর্দার সেই জনপ্রিয় অভিনেতা অমল চৌধুরী আর নেই। আপামর বাঙালির কাছে তিনি চিরপরিচিত ‘অমল অসুর’ নামেই। তাঁর এমন মৃত্যুতে শেষ হয়ে গেল বাংলা টেলিভিশনের একটি বহু আলোচিত যুগ। 

    মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২। বুধবার সকালে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার হয়। যদিও কীভাবে মৃত্যু, তা জানা যায়নি এখনও। ময়নাতদন্তের পরেই তা জানা যাবে। 

    পর্দায় অমল যতই দেবীর সঙ্গে জোরদার লড়াই করুন না কেন তাঁর বাস্তবের জীবন কিন্তু ধীরে ধীরে ঢাকা পড়েছিল অভাবের অন্ধকারে। নিজে অসুর রূপে দুর্গাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেও নিজের জীবনের অভাবের অসুর তাঁকে কিন্তু কোনঠাসা করে দিয়েছিল।  কাজ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে অর্থের অভাব। জানা গিয়েছে, জীবনের শেষদিকে ছবি আঁকা ও হাতের কাজ করেই কোনওরকমে দিন গুজরান হত তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও সেই লড়াই ছিল সম্পূর্ণ নিভৃতেই, আড়ালেই। জীবনের চলার পথে একে একে বাবা-মা এবং কাছের লোককে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গী হয়ে ওঠে একাকিত্ব। উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের সংহতি পার্ক এলাকার একটি টিনের চালের ছোট্ট ঘরে একা বসবাস করতেন অমল। সেখানেই তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

    অমল চৌধুরীর প্রয়াণের পর নাট্যশিল্পী ও অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, "অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওঁকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছি। চেষ্টা করতাম যতটুকু সম্ভব তাঁকে অর্থসাহায্য করতে। কিন্তু পাশাপাশি একথাও বলব, অভাবে থেকেও তিনি কিন্তু কোনোদিনই হাত পেতে কারুর কাছে কিছু চাননি।" 

    খবর পেয়ে অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ দাস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পর্দায় যিনি ছিলেন ভয়ংকর এক অসুর, বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন অসুস্থ শরীরে নিঃসঙ্গ এবং অভাবী এক শিল্পী। জনপ্রিয় এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ঘিরে ধরেছে গোটা অশোকনগরকেই। স্থানীয় বাসিন্দারা এই করুণ পরিণতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শিল্পীর এই প্রয়াণ কিন্তু ফের সেই কথাই প্রমাণ করে দিল, স্টেজের পিছনটা কিন্তু সত্যিই অন্ধকার!
  • Link to this news (আজকাল)