নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি মেয়াদ শেষের আগেই ভোট করাতে হয়, তবে অন্তত পনেরো দিন আগে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সেই হিসেবে, যদি ২০২৬ সালের এপ্রিলের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। ফলে রাজ্যসভার নির্বাচন বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) চলার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে কাজের চাপ বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এই সম্ভাবনা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক ব্যস্ততা এবং রাজনৈতিক সমীকরণ— সব মিলিয়ে রাজ্যসভার ভোটের সময় নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বিরোধী দল বিজেপির কৌশল— দু’পক্ষের কাছেই এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, একই সময়ে একাধিক রাজ্যে রাজ্যসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশেও রাজ্যসভার নির্বাচন হবে। যদিও প্রতিটি রাজ্যে ভোটের দিন আলাদা আলাদা হবে বলেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে কাদের মনোনয়ন দেয় সেদিকে সবার নজর রয়েছে। সেই সঙ্গে কৌতূহল রয়েছে বিজেপির মনোনীত প্রার্থী তালিকা নিয়েও। বিধানসভা ভোটের আগে এই নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।