• হাইকোর্টে নিষ্পত্তি তৃণমূলের আইপ্যাক মামলা, মুলতুবি করা হল ইডির মামলা
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • ইডির  এই কথা শোনার পর আশ্বস্ত হন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী। তিনি সওয়াল জবাবের সময়েই  বলেছিলেন, ইডি যদি অন রেকর্ড জানায় যে তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তাহলেই মহামান্য আদালত তথা কলকাতা হাইকোর্ট তাদের পিটিশনকে ডিসপোজ করে দিতে পারে। তারপরেই এই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়।

    এ দিন ইডি আদালতে জানায়, সুপ্রিমকোর্টে একই ইস্যুতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাই হাইকোর্ট আপাতত এই মামলা মুলতুবি রাখা হোক। তাদের আরও দাবি, শুধু তাদের আবেদনই নয়, তৃণমূল যে আবেদন করেছে, সেই আবেদনের শুনানিও মুলতুবি করা হোক। কারণ কয়েক দিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট তাদের মামলার শুনানি রয়েছে। তার পরে এই দুই মামলায় শুনানির আবেদন জানায় ইডি। সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করার কথাও জানায় ইডি।

    যদিও তৃণমূলের তরফে আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী জানান, ‘তৃণমূলের তরফে আমরা যে আবেদন করেছি, তার শুনানি এখনই করার আবেদন করছি। তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেনি। আর এই মামলায় তৃণমূল পার্টি নয়। ফলে এখানে তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি করায় কোনও বাধা নেই।’ আদালত সওয়াল-জবাব শেষে এই মামলার নিষ্পত্তি করে দেয়। অন্য দিকে ইডি আইপ্যাক নিয়ে যে মামলা করেছে, আপাতত তার শুনানি মুলতুবি করা হয়েছে।

    এ দিন শুনানিতে ইডি আদালতে জানায়, তারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, তাই হাইকোর্টে মামলার মুলতুবি চায়। ইডির দাবিতেই মান্যতা দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। সুপ্রিম কোর্টে   কী হচ্ছে, তা শোনার পরেই ইডির মামলা শুনবে হাইকোর্ট। ততদিন পর্যন্ত ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি মুলতুবি থাকবে।  বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি রয়েছে। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে।

    ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আচমকাই পৌঁছে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা।  প্রতীকের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরোতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে ইডির তল্লাশি অভিযানের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।

    প্রথম মামলাটি দায়ের করে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ইডি বেআইনি ভাবে ওই তল্লাশি চালিয়েছে। ভোট সংক্রান্ত নথি এবং কৌশল চুরি করতেই ইডি তল্লাশি চালিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ তুলে মামলা করে ইডি। ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, কয়লা পাচার মামলার তথ্য ও নথি ‘চুরি’ করা হয়েছে। ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)