• ভোটার তালিকা সংশোধনে ফর্ম ৬ ও ৭ গ্রহণে অনীহার অভিযোগ বিজেপির
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিজেপি নেতা সঞ্জয় সিংহ, তাপস রায় এবং প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের সময় তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত অভিযোগ ও নথি সিইও-র হাতে তুলে দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    বিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত ফর্ম ৬ (নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি) ও ফর্ম ৭ (নাম বাতিলের আবেদন) জমা দিতে গেলে বহু জায়গায় বিএলও-রা তা গ্রহণ করছেন না। এমনকি সংশ্লিষ্ট এআরও ও ইআরও-র দপ্তরেও একই ধরনের অনীহার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি দলের। ফলে সাধারণ ভোটাররা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ বিজেপির।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জোড়াসাঁকো, ব্যারাকপুর, হাওড়া, কোচবিহার, ঘাটাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং ডায়মন্ড হারবার-সহ একাধিক এলাকায় একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বিজেপির বক্তব্য, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার প্রভাবেই মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মীরা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।

    এদিন বৈঠক শেষে বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, ‘বৈধ ভোটারদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অবৈধ ভোটারদের নাম রেখে দেওয়াও গণতন্ত্রের পরিপন্থী। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।’

    অন্যদিকে, সিইও বৈঠকে আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি তিনি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের নজরে আনবেন। পাশাপাশি, কোথাও ফর্ম গ্রহণে সমস্যা হলে অনলাইন মাধ্যমে ফর্ম ৬ ও ৭ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এই ঘটনার পাশাপাশি বিজেপি আরও অভিযোগ তোলে, সম্প্রতি সংগৃহীত ফর্ম নিয়ে দলের কর্মীরা এসডিও-র দপ্তরের দিকে যাওয়ার সময় বাধার মুখে পড়েছিলেন। ওই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে বলেও দলের দাবি।

    সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)