• RG Kar আন্দোলনেও কলঙ্কের দাগ! ওর পোস্টিঙের মামলাতেই আমাদের ১৭ লাখ খরচ হয়েছে, অনিকেত আসলে স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী... বিস্ফোরক জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট
    ২৪ ঘন্টা | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • অয়ন শর্মা: আরজি কর মামলার অবস্থান কোথায় এই বক্তব্য জানাতে আরজি কর জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট সাংবাদিক বৈঠক করেছিল। আর তাতে যা উঠে এল, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছেন তারা। অভিযোগুলোর ভিত্তিতে আরজি কর আন্দোলন যেখানে দাঁড়িয়ে সদস্য দেবাশীষ হালদার বলেন, 

    '১.শিয়ালদহ ট্রায়াল কোর্টে মামলা,সিবিআই চার্জশিটে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে।

    ২.সুপ্রিম কোর্টে - টাস্ক ফোর্স গঠন হয়নি।দেশের শীর্ষ আদালত মামলা নিজের উপর থেকে ঝেড়ে ফেললো।

    ৩. অভয়ার মা ও বাবার মামলা ----- ২ মাস ধরে ডেট পাওয়ার পরও শুনানি হচ্ছে না। তারিখ পে তারিখ।

    ৪. প্রচুর মানুষ হতাশায়। অনেকে রাস্তায় হেঁটেছেন। এতকিছু করলাম, সব কিছু। বিচার দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের।বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা ভরসা করেছিলাম,কিন্তু পাইনি। সে কারণে হতাশা হয়েছি। বিচার ব্যবস্থার দায়।'

    আরও বলেন, 'রাজ্যের সরকারের ভূমিকা ------ প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতারণা। সেটা মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন। হাসপাতালগুলোর অবস্থা দেখে আসুন। রাজ্যের হাসপাতাল গুলোর অবস্থা নিয়ে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে, সেটা মিথ্যা। গ্রামের হাসপাতাল গুলির থেকে সিভিক ভলেন্টিয়ার তুলে নেওয়া হয়েছে,কিন্তু পুলিশ নেই। কারণ নিয়োগ নেই। অর্থাৎ নিরাপত্তার হাল খারাপ হাসপাতাল গুলির মধ্যে। রেফার রোগ কি সেরেছে? আজও বিভিন্ন জায়গায় মানুষ চরম সমস্যায়।আমরা রোগী স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি'।

    নিয়োগ বা শূন্যপদ নিয়ে বলেছেন, 'বহু জায়গায় নিয়োগ শুরু হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে দুর্নীতি হচ্ছে কিনা,আমরা নজর রাখছি। ভোটের আগে নিয়োগ করা হবে। এমনটা করলে হবেনা। প্রতি বছর নিয়োগ করতে হবে। যারা এসআর হিসাবে পাশ করেছেন কিন্তু ২ মাস ধরে নিয়োগ করা হচ্ছেনা'।

    থ্রেট কালচার ----- 'রাজ্যের সরকার অভিযুক্তদের বাঁচাতে,কল্যাণ ব্যানার্জির মত বড় আইনজীবী রাখছে। সাহায্য করা হচ্ছে অভিযুক্তদের। ভোট হচ্ছে না মেডিকেল কলেজে। ইডির সবুজ ফাইল নিয়ে নাটক দেখেছেন'।

    অর্ণব মুখার্জি আরেক সদস্য বলেন, 'ট্রাস্ট বানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের মামলা লড়ার জন্য। সেই সময় ট্রাস্ট গঠন করাহয়। সেই বডি কী ভাবে কাজ করবে সেটা বিগত কয়েক মাস ধরে চালাচ্ছিলাম। মানুষ যাতে আমাদের উপরে ভরসা করে। wbdf এর মেম্বার হিসাবে কাজে আসতে পারে। সেটা নিয়ে এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠন করা নিয়ে এত আলোচনা। এতে কতজন আছে এটা গুরুত্বপুর্ন নয়। কী ভাবে এই কমিটিতে যোগদান করবেন, সেটা জানানো হবে। অনেকে খবর করার চেষ্টা করেছেন। ডাক্তার অনিকেত মাহাতোর সঙ্গে আমাদের নিয়ে ভুল ধারনার বশবর্তী হবেন না'।

    আরও বলেন, 'অনিকেত সংগঠনের পার্ট ছিলেন। এখানে অডিট নিয়ে কোন সমস্যা নেই। ভারতের ইতিহাসের কোন গণ আন্দোলনে যারা অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়?

    ১ কোটি ৯৪ লাখ আগে ছিল ফান্ডে। আবার এই বছর অডিট রিপোর্ট প্রকাশ হবে। এরপর ৪২ লাখ টাকা বিচার প্রক্রিয়ার জন্য।

    অনিকেত মাহাতোর কেসে খরচ - প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা খরচ। বিভিন্ন জায়গায় থ্রেট কালচারের কেসে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ১.৩৩ লাখ টাকা ঘাটালে বন্যায় টাকা খরচ। ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে সরকারকে'। 

    আসফাকুল্লা নাইয়া বলেন, 'শুধুমাত্র তিনজন এসআর এর কাউন্সেলিং নয়। বহু আন্দোলনকারীকে হেনস্থা করা হয়েছে। যারা আন্দোলনে এসেছিলেন তাদের প্রতিহিংসা মূলক আচরণ করা হচ্ছে। কোন ব্যক্তিবিশেষ এর উপর প্রতিহিংসা দেখব না। আর জি করে আগে যেভাবে পরীক্ষা হত, এখন অনেক সুষ্ঠ ভাবে পরীক্ষা হয়। এখন অনেক ভালো পড়াশোনা হচ্ছে। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা নয়'।

    পুলস্থ আচার্য্য বলেন, 'অনিকেতের পদত্যাগ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এসআর সিপ এর পোস্টিং ছেড়ে দেওয়ায় এটা সরকার কে সুবিধা করে দিলেন। তিনি যে ক্রাউড ফান্ডিং এর দায় আমাদের নয়। আমরা অনিকেত মাহাতোর সাথে সমস্ত রকম সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করছি।'

    অর্ণব মুখার্জী জানান, ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র প্রযুক্তির করব। সাধারণ মানুষ যারা যোগদান করবেন,তাদের বিনামূল্যে। যারা বাকিরা মেম্বার সিপ নেবেন,তাদের লাইফটাইম মেম্বার সিপ ৯ টাকা

    অর্ণব মুখার্জী বলেছেন-- 'সাংগঠনিক ভাবে সম্পর্ক ছেদ করছি। সাধারণ মানুষ জানতে চেয়েছিলেন,তার সাথে কি সম্পর্ক। ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্ট সমস্ত সম্পর্ক, ছিন্ন করল। ৩১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন অনিকেত মাহাতো। পদত্যাগ করার মত এমন কিছু হয়নি। যেদিন মিটিং করার কথা ছিল সেদিনই পদত্যাগ। কোন একজন ক্রীড়ামন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, ভুল বানান লিখে এমনটা আমাদের ক্ষেত্রে নয়। সাংগঠনিক ভাবে নেই,তার কাজ আমাদের আন্দোলনের বিরোধী। ক্রাউড ফান্ডিং এর বিষয়টা আমাদের ঠিক মনে হয়না। তার জন্য আমাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে এটা আমরা চাইনা। অভয়ার বাবা ও মা তাকে সমর্থন না করার বিষয়টি তার মতো করে বলেছে। অনিকেতের মামলা আমাদের সংগঠনের ১৭ লাখ টাকা থেকেই হয়েছে'।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)