• মেদিনীপুর-ঝাড়গ্রামে মন কেমনের সুর, একদিনের মেলায় জমল মকরস্নান
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: গঙ্গাসাগর যেতে না পারলে কী হলো, সুবর্ণরেখা, শিলাবতী, রূপনারায়ণের তীরেই মকরস্নানের ভিড় দেখা গেল। পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে কোথাও বসল মেলা, কোথাও আবার টুসু ভাসানোর সময়ে ভেসে এল মন কেমনের সুর!

    মকর সংক্রান্তিতে কেশিয়াড়ির ওলদাচণ্ডী মেলা বসে এক দিনের জন্য। সাঁতরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওলদা গ্রামের ঠাকুর থানে নেই স্থায়ী মন্দির। ঝোপজঙ্গলের মাঝে একটি পাথরের মূর্তিকে পুজো করা হয়। পুণ্যের আশায় কেউ পায়রা ছাড়েন, ঠাকুরের থানে হাতি-ঘোড়া দান করেন। পায়েস বা খিচুড়ির ভোগ দেন। মেলা কমিটির সদস্য সত্যেশ্বর জানা বলেন, 'পূর্বপুরুষদের কাছে মেলার গল্প শুনেছি। অন্তত ৫০০ বছরের পুরনো এই মেলা ও পুজো।'

    ঘাটাল পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড গঙ্গাঘাটে ভাসাপোল সংলগ্ন শিলাবতীর পাড়েও আয়োজন হয় গঙ্গাপুজো ও একদিনের গঙ্গামেলার। ব্রিটিশ আমলে শুরু হওয়া এই মেলায় বাঁশ, বেত ও লোহার জিনিসপত্রের বিকিকিনি হয় আজও। এদিকে সকালে পুজো সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন এক পুরোহিত। বুধবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রসুলপুরের মাইতি পাড়ায়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিতাই চক্রবর্তী নামে বছর বাষট্টির ওই পুরোহিত দাসপুরের রসুলপুরে এক ব্যক্তির বাড়িতে পুজো করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে স্কুটিতে ফিরছিলেন বৈকুণ্ঠপুর রাজ্যসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তমলুকে আবার কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বহু মানুষ ভিড় করেন রূপনারায়ণের তীরে। পুণ্যার্থী ভগবতী সামন্ত বলেন, 'মকর সংক্রান্তিতে অনেকেই গঙ্গাসাগরে যাচ্ছেন, আমরা যেতে পারিনি। তাই দু'জনেই ভোরে উঠে রূপনারায়ণে স্নান করতে চলে এসেছি।'

    তমলুক পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া বলেন, 'পুরসভার পক্ষ থেকে সহায়তা কেন্দ্র, মেডিকেল ক্যাম্প, অস্থায়ী শৌচালয় এবং জামাকাপড় বদলানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।' পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার সীমানায় কংসাবতী নদীর চরে টুসু ভাসানকে ঘিরে বসে কয়েক ঘণ্টার এক প্রাণবন্ত লোকজ মেলা। ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া, আমদই, বাঁশতলা-সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মহিলারা টুসু ভাসান দেন।

  • Link to this news (এই সময়)