নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশি গবাদি পশু, মহিষ, হাঁস-মুরগির মতো প্রাণী কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এদের উন্নতি হলে সরাসরি কৃষকদেরও উন্নতি হবে। পশুধন রক্ষা করলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। তাই স্রেফ নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে গোরুকে শোষণ করা চলবে না। আমরা তো এখন গোরুর দুধ দোহন করি না। শোষণ করি। এই মানসিকতা ছাড়তে হবে। গোরু গোমাতাই শুধু নয়। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আধ্যাত্মিক। ভগবান কৃষ্ণর প্রিয় ছিল গোরু। বুধবার পশু প্রজাতির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত এক সরকারি অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
গোরু সহ গবাদি পশুর রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে কী করা দরকার, তা মন্ত্রীর কাছে উপদেশ আকারে জানতে চেয়েছিল আইসিএআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচার রিসার্চ)। পুসা ইনস্টিটিউটের ওই অনুষ্ঠানে আইসিএআরের ডিজি ড. এম এল জাঠের এই আর্জিতে পরামর্শ দিতে গিয়ে শিবরাজ চৌহান কৃষ্ণ, যশোদা মাতা, গোরুর গল্প শোনালেন। বললেন, পশুধন নষ্ট হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই পুরনো প্রজাতির গোরুকে যেমন বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তেমনই নতুন প্রজাতি তৈরিতেও জোর দিতে হবে। এখন তো উন্নত প্রজাতির ভেড়া একসঙ্গে তিনটি বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। একইভাবে গোরু তা পারে কিনা, তা দেখতে হবে। গোরুর মতোই মহিষ, মিথুনের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। প্রজাতির সংখ্যা বাড়ালে একদিকে তেমন কৃষকদের উপার্জন বাড়বে, একইসঙ্গে উৎপাদনও। নতুন প্রজাতির জন্ম দেওয়া বৈজ্ঞানিকদের সম্মান জানাতে হবে প্রকাশ্যে। অনুষ্ঠানে আইসিএআরের ডিজি বলেন, গোরু-মহিষের আনুপাতিক হারে সামঞ্জস্য নেই। তা বাড়াতে হবে। এখনও পর্যন্ত ২৪২ প্রজাতির গবাদি পশুর রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ গবাদি পশুর রেজিস্ট্রেশনই আমাদের লক্ষ্য।