উত্তর ভারতে মহিলাদের বাড়িতে থাকতে বাধ্য করা হয়, মন্তব্য ডিএমকে সাংসদের
বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
চেন্নাই: উত্তর ভারতের মহিলাদের চাকরি করার অধিকার নেই। তাঁদের শুধু রান্নাঘরে কাজ করতে ও সন্তান প্রতিপালনের জন্য বাধ্য করা হয়। এক অনুষ্ঠানে গিয়ে এমন মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন চেন্নাই মধ্যের ডিএমকে সাংসদ দয়ানিধি মারান। একটি সরকারি কলেজের অনুষ্ঠানে তিনি আরও মন্তব্য করেন, উত্তর ভারতের তুলনায় তামিলনাড়ুর মহিলাদের ছবিটা অন্য। তাঁদের পড়াশোনায় উত্সাহ দেওয়া হয়। মারানের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সরব হয়েছে বিজেপি। দলের তামিলনাড়ুর মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি পালটা অভিযোগ তুলেছেন, ‘ফের একবার দয়ানিধি মারান উত্তরপ্রদেশের মানুষকে অপমান করলেন। তাঁকে এরকম কেন করতে দেওয়া হয়, তা ভেবে খারাপ লাগে। তবে, এটাই ডিএমকের চরিত্র। দয়ানিধি মারানের সাধারণ বুদ্ধি নেই।’
মঙ্গলবার কোয়াদ-ই-মিল্লাত সরকারি মহিলা কলেজের ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মারান। অনুষ্ঠানে তামিলনাড়ুর উপমুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মারান বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা সেখানে ল্যাপটপ হাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবে বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করবে। আমরা তামিলনাড়ুতে মেয়েদের পড়াশোনা করার জন্য উত্সাহিত করি। আর উত্তর ভারতে কী বলা হয়? মেয়েরা, কাজে যেও না। বাড়িতে থাকো, রান্নাঘরে থাকো, সন্তান জন্ম দাও, এটাই তোমাদের কাজ।’ তিনি আরও দাবি করেন, সবাই শিক্ষিত হওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিও চেন্নাইয়ে আসছে। মহিলাদের উন্নয়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিজেপি নেত্রী অনিলা সিং দাবি করেছেন, ‘মারান ভুলে গেছেন যে তিনি ভারতে বাস করেন। আর ভারত শক্তির উপাসনা করে। উনি যদি মনে করেন, শক্তিকে পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণে ভাগ করা যায়, তাহলে উনি আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না।’ যদিও মারানের পাশেই দাঁড়িয়েছে ডিএমকে। দলের নেতা টি কে এস এলানগোভানের বক্তব্য, ‘একটি রাজ্যের মহিলাদের উন্নয়ন নির্ভর করছে কোন দল সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে। কংগ্রেসও মহিলাদের উন্নয়নে কাজ করছে। উত্তর ভারতে কেউ মহিলাদের জন্য লড়াই করে না।’ দলের একটি সূত্রও জানিয়েছে, ডিএমকে মহিলাদের উদ্বুব্ধ করতে চেয়েছিলেন। দেশে শিল্পক্ষেত্রে মোট মহিলা কর্মীদের ৪০ শতাংশই তামিলনাড়ুর। সেই বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।