• পরীক্ষার মুখে প্রিয়াঙ্কা? প্রশ্ন দলেই, অসমের ভোটে দলের প্রার্থী বাছাই কমিটির চেয়ারপার্সন
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তখন তিনি ছিলেন বিদেশে। আচমকা গত ৩ জানুয়ারি রাতে ঘোষণা হয়, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে অসম বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাই (স্ক্রিনিং) কমিটির চেয়ারপার্সন করা হল। এআইসিসির এই ঘোষণার কয়েকদিন পরেই বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। ‘তারকা প্রচারকে’র পাশাপাশি দলের ভোট স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণে তিনি থাকেন বরাবরই। কিন্তু প্রার্থী বাছাই কমিটির প্রধান এর আগে কোনওদিন করা হয়নি। তবে কি তাঁকে পরীক্ষার মুখে ফেললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে? নাকি প্রত্যাশা? দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চর্চা। গান্ধী পরিবারেও চলছে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর। 

    এর আগে উত্তরপ্রদেশে জান লড়িয়েও সাফল্য পাননি সোনিয়া-কন্যা। দীর্ঘদিন আমেথি, রায়বেরিলি গান্ধী পরিবারের গড়। প্রিয়াঙ্কাই দেখতেন মা সোনিয়া আর দাদা রাহুলের কেন্দ্রের যাবতীয় কাজ। তা সত্ত্বেও ২০২২ সালে ৪০৩ আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে পেরে ওঠেননি প্রিয়াঙ্কা। ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ স্লোগান তুলে প্রচারে ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস ৩৯৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জিতেছিল মাত্র দুটিতে। ৩৮৭ প্রার্থীর তো জমানতই জব্দ হয়েছিল। তাই অসমে তাঁকে সরাসরি প্রার্থী বাছাই কমিটির প্রধান করে দেওয়ায় কিছুটা হলেও প্রিয়াঙ্কা চাপে পড়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। ২০২১ সালের নির্বাচনে অসমে কংগ্রেস ৯৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৯ টিতে জিতেছিল। বিজেপি ৯০ আসনে লড়ে পেয়েছিল ৬০টি। এবার একদিকে যেমন বিজেপি ফের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া, একইভাবে কংগ্রেস তা ছিনিয়ে নিতে। 

    তারই লক্ষ্যে দল এবং সমর্থকদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়াতে প্রার্থী বাছাই পর্ব থেকেই প্রিয়াঙ্কাকে সামনে আনা হয়েছে বলে এআইসিসির ব্যাখা। উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের সময় প্রিয়াঙ্কা সাংসদ ছিলেন না। এখন তিনি সংসদ দাপাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও প্রিয়াঙ্কার সামনে বিষয়টি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের মধ্যেও চলছে আলোচনা। কেন তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হল? তাই প্রিয়াঙ্কার প্রেস্টিজ বাঁচাতে প্রতিরক্ষার ভার দেওয়া হল দুই প্রভাবশালী নেতাকে। ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং কর্ণাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের নেতা বন্ধু তিরকেও। অসমের নির্বাচনে সিনিয়র পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁদের নিয়োগ করেছেন খাড়্গে। দলীয় সূত্রে খবর, গান্ধী পরিবারের চাপেই এই সিদ্ধান্ত। অসমে যদি ফের কংগ্রেসের হার হয়, তাহলে যাতে একা প্রিয়াঙ্কার ঘাড়ে ব্যর্থতার দায় না চাপে, তারই লক্ষ্যে তিন সেনাপতিকে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু গৌরব গগৈকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে কোনওভাবে যদি অসম জিতে যায় কংগ্রেস, তাহলে আবার পাল্লা ভারী হবে প্রিয়াঙ্কারই। ফলে প্রিয়াঙ্কা-পাশায় নজর বাড়ছে রাজনৈতিক মহলের। 
  • Link to this news (বর্তমান)