নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ভোর থেকে সকাল, দুপুর থেকে বিকেল মকর সংক্রান্তির দিনে নানা ছবি ধরা পড়ল গৌড়বঙ্গজুড়ে। কোথাও পুণ্যস্নান, কোথাও ঘুড়ি উত্সবে মাতল আট থেকে আশি। কোথাও আবার পুণ্যস্নান সেরে পিকনিকে মাতলেন মানুষ। আর বাঙালির ঘরে ঘরে সুস্বাদু পিঠেপুলি বানানোর ধুম।
বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের গঙ্গাসাগরে কপিল মুনি ও গঙ্গাদেবীর বাৎসরিক পুজো হয়েছে। সকালে আত্রেয়ী নদীতে পুণ্যস্নান সারেন হাজার হাজার মানুষ। নদী তীরবর্তী মন্দিরে কপিল মুনি, গঙ্গাদেবীর পুজো হয়। এই পুজো উপলক্ষ্যে মন্দির চত্বরে তিনদিন ধরে কীর্তন হবে। কপিল মুনি উৎসব কমিটির সভাপতি পরিতোষ মণ্ডল জানান, চাঁদা তুলেই এখানে চারদশক ধরে মকর সংক্রান্তির দিনে পুজো হয়।
হরিরামপুরে শ্রীমতি নদীতে পুণ্যস্নান সেরে পাড়েই পিকনিকে মাতলেন পুণ্যার্থীরা। দশকের পর দশক ধরে পৌষ সংক্রান্তির দিনে এখানে জেলার মানুষ পুণ্যস্নান করেন। এদিন হাজার হাজার মানুষ শ্রীমতিতে স্নান করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মনসামঙ্গল কাব্যে শ্রীমতি নদীর বিবরণ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, এই নদীপথ দিয়ে বেহুলা স্বর্গযাত্রা করেন। হরিরামপুরের গোদল এলাকায় শ্রীমতি নদীর ধারে তৈরি হয়েছে গঙ্গা ও মনসা মন্দির। পুণ্যার্থীরা নদীতে স্নান সেরে গঙ্গামন্দিরে পুজো দেন। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে শ্রীমতি নদীর পাড়ে গঙ্গামেলা বসেছে। তিনদিন ধরে মেলা হবে। নদীর পাড়ে পিকনিকও হয়। মেলা কমিটির সভাপতি ইন্দ্র দেবশর্মা বলেন, মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে এখানে পুণ্যস্নান করেন বহু মানুষ। গঙ্গাপুজো হয় তিনদিন। নদীর পাশেই ফাঁকা মাঠে অনেকে পিকনিক করেন। তিনদিনের মেলাও বসেছে।
মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার খেজুরিয়া গঙ্গা ঘাটে বুধবার ভোর থেকে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। মালদহ জেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ ঘাটে ভিড় জমান। ভোর থেকেই গঙ্গার তীরে শঙ্খধ্বনি, প্রার্থনা ও স্নানপর্বকে ঘিরে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় সত্তর বছর ধরে মকর সংক্রান্তির দিন খেজুরিয়া গঙ্গা ঘাটে পুণ্যস্নান ও মেলা হয়ে আসছে। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা পুণ্যার্থীদের জন্য সবরকমের ব্যবস্থা করে আয়োজক কমিটি। এদিন গঙ্গাস্নান সারেন রাধা দাস। গঙ্গার তীরে বসে মেলা। বাউল গানের আসরও বসে।
সংক্রান্তির সকাল থেকে কুলিকের পাড়ে বসল ঘুড়ি উত্সব। শৈশবের স্মৃতিকে আরও তাজা করতে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর উদ্যোগে বুধবার পৌষ সংক্রান্তিতে উদয়পুর মাঠে আয়োজন হল একদিনের কাইটস ফেস্টিভাল। যেখানে রংবেরংয়ের ঘুড়ি উড়ল। হল প্রতিযোগিতাও। সেইসঙ্গে একই মাঠে চলল বসে আঁকো প্রতিযোগিতাও। সঙ্গে ছিল খাবারের স্টল। ঘুড়ির প্রতি নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ বাড়াতে, হারানো স্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ তৈরি করতে এই উদ্যোগ। • মালদহের গাজোলে সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নানের ভিড়। - নিজস্ব চিত্র।