• গাছ কাটা নিয়ে বিবাদ, দম্পতিকে কুপিয়ে খুন
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: বুধবার মাথাভাঙা-২ ব্লকের উনিশবিশার ভোগমারায় ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের কোপে মৃত্যু হল দাদা-বউদির। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম দিলীপ বর্মন (৪১) ও শম্পা বর্মন (৩৫)। অভিযুক্তের নাম নারায়ণ বর্মন। সে দিলীপ বর্মনের খুড়তুতো ভাই। ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘোকসাডাঙা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও ঘটনার পরপরই পালায় নারায়ণ। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। 

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১১টা নাগাদ দিলীপ বর্মন আলু খেতে স্প্রে করছিলেন। এদিকে, তাঁর বাড়ির পিছনে একটি কুল গাছের ডাল কাটছিলেন প্রতিবেশী পুণ্যেশ্বর বর্মন। গাছটি দিলীপ বর্মনের হওয়ায় ডাল কাটতে নিষেধ করেন তিনি। সেই সময়ে আচমকা দিলীপের খুড়তুতো ভাই অভিযুক্ত নারায়ণ বর্মন সেখানে কুড়ুল নিয়ে এসে হাজির হয়। কিছু শোনার আগেই দিলীপের উপর হামলা করে সে। কুড়ুল দিয়ে আঘাত করে দাদাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দিলীপের। চিৎকার শুনে আসেন দিলীপের স্ত্রী শম্পা। তাঁকেও কুড়ুল দিয়ে কোপায় সে। মৃত্যু হয় তাঁরও। ঘটনার সময় পাশেই দাঁড়িয়েছিল দিলীপবাবুর ছেলে ও মেয়ে। ছেলে অষ্টম শ্রেণির ও মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া। চোখের সামনে বাবা-মাকে খুন হতে দেখে তারা চিৎকার শুরু করলে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। বিপদ বুঝতে পেরে ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়েই এলাকা থেকে চম্পট দেয় নারায়ণ। এদিকে, দম্পতিকে ঘোকসাডাঙা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নারায়ণ মানসিক বিকারগ্রস্ত। সাইকেলে লোহার রড, ছুরি নিয়ে ঘোরে। তবে এদিন দিলীপ ও পুণ্যেশ্বরের কথার মাঝে সে কেন কুড়ুল নিয়ে এল এবং দাদা-বউদিকে কেন কুড়ুল দিয়ে কোপাল, তা নিয়ে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে সবকিছুই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। 

    এক প্রতিবেশী বলেন, অভিযুক্ত নারায়ণ তার দাদা দিলীপ ও বউদি শম্পাকে প্রায়শই গালাগাল করত। খুনের হুমকিও দিত। মানসিক বিকারগ্রস্ত থাকায় হয়তো কিছু বোঝার আগেই হাতে থাকা কুড়ুল দিয়ে আঘাত করে সে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করলে পরিষ্কার বোঝা যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা সত্যেন ডাকুয়া বলেন, বর্মন দম্পতিকে কুড়ুল দিয়ে কোপ মারার কথা জানার পরই সেখানে যাই। তবে তার আগেই নারায়ণ পালিয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা আমাদের গ্রামে হবে ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। স্বামী-স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়েই সংসার ছিল। মা-বাবা হারা সন্তানদের নিয়ে গিয়েছে ওদের দাদু ও দিদা। 

    এ ব্যাপারে মাথাভাঙার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার বলেন, প্রকাশ্যে দম্পতিকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি আমরা। • নিহত দিলীপ ও শম্পা।
  • Link to this news (বর্তমান)