• পৌষ-পার্বণে মারনাই গ্রামে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করার ধুম
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ইটাহার: পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে মকর সংক্রান্তিতে ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো করতে ধুম গ্রামের মহিলাদের। পিঠে-পুলি তৈরির জন্য লাইন দিয়ে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করলেন মারনাই গ্রামের মহিলারা। আধুনিক যুগে ঢেঁকি প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিন্তু মকর সংক্রান্তি এলে এখনও ইটাহারের সবচেয়ে পুরনো গ্রাম মারনাইয়ে ঢেঁকির শব্দ শোনা যায়। মেশিনের তুলনায় ঢেঁকিতে করা চালের গুঁড়োর পিঠে স্বাদেও অতুলনীয়, দাবি মহিলাদের।

    ইটাহার ব্লকের মারনাই গ্রাম জমিদারের গ্রাম বলে পরিচিত। সেই আমল থেকে গ্রামে ঢেঁকির চল রয়েছে। তবে ইটাহারের আর অন্য কোথাও ঢেঁকির চল নেই। বর্তমানে ব্যস্ততম সময়ে পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার সময়ও নেই মানুষের হাতে। ফলে মেশিনে করা চালের গুঁড়ো দিয়েই পিঠে তৈরিতে অভ্যস্ত নতুন প্রজন্ম। কারণ, ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করতে সময় লাগে বেশি। পরিশ্রমও হয়। ফলে বাজার থেকে রেডিমেড চালের গুঁড়ো নিয়ে আসছেন অনেকে। তবে ঢেঁকির কদর শেষ হয়ে যায়নি।

    ইটাহারের দাসপাড়ার বধূ দিপালী দাস বলেন, এখন ঢেঁকিতে করা চালের গুঁড়ো কোথায় পাব। তাই বাজার থেকে চালের গুঁড়ো কিনে এনেছি। তা দিয়েই পিঠে বানাবো। তবে ঢেঁকিতে করা চালের গুঁড়োর তৈরি পিঠে অনেক নরম, স্বাদও অনেক বেশি।

    সময়ের অভাবে অনেকে বাজার থেকে চালের গুঁড়ো কিনে আনলেও গ্রামের বয়স্ক মহিলাদের এখনও ভরসা ঢেঁকি। পৌষ-পার্বণে এখনও মারনাই গ্রামের মহিলারা লাইন দিয়ে ভিড় জমান সত্তরোর্ধ্ব নির্মলা হালদারের বাড়িতে। তাঁদের বাড়ির শতাব্দী প্রাচীন ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করেন তাঁরা। নির্মলার কথায়, শ্বশুরের আমল থেকে বাড়িতে ঢেঁকি রয়েছে। গ্রামের মানুষের চাহিদা দেখে এই ঢেঁকির ব্যবহার এখনও বন্ধ করিনি। বুধবার গ্রামের মৌসুমী নন্দী, ডলি দাস, নমিতা রবিদাস, অলকা দাস সহ অন্য মহিলারা ব্যস্ত ছিলেন চাল গুঁড়ো করতে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে গ্রামের একমাত্র ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ো করার কাজ। 

    ডলি, মৌসুমীদের কথায়, আমরা গ্রামের কেউ মেশিনে চাল গুঁড়ো করে তা দিয়ে পিঠে তৈরি করি না। কারণ, ঢেঁকিতে করা চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠের স্বাদ বেশি। মারনাই গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক অক্ষয় পাল বলেন, গ্রামে এখনও ঢেঁকি অচল হয়ে যায়নি। পৌষ-পার্বণ এলে তা বোঝা যায়।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)