• মাথাভাঙায় ১৭টি হাতির পাল, রাতভর অভিযান সকাল ৬টায় দক্ষিণ খয়েরবাড়ি জঙ্গলে ফেরাল বনদপ্তর
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে মাথাভাঙার দরিবস থেকে ১৭টি হাতির দলকে জলদাপাড়ার দক্ষিণ খয়েরবাড়ির জঙ্গল ফেরাতে সক্ষম হল বনদপ্তর। অভিযান শেষ হয় বুধবার সকাল ৬টায়। 

    সোমবার গভীর রাতে ঘন কুয়াশায় দিকভ্রষ্ট হয়ে জলদাপাড়ার হাতির দলটি ফালাকাটা হয়ে কোচবিহারের মাথাভাঙার দরিবসে কাশবনে আশ্রয় নিয়েছিল। ডুডুয়া নদী পেরিয়ে মাথাভাঙার বালাসুন্দর হয়ে বিলাতু ঘাটে চলে যায় হাতির দলটি। হাতির পালটিকে জঙ্গলে ফেরাতে চ্যালেঞ্জ ছিল বনদপ্তরের। কারণ দলে ছিল পাঁচটি শাবক। ছিল পাঁচটি সাব অ্যাডাল্ট। বাকি সাতটি ছিল পূর্ণবয়স্ক হাতি। 

    সঙ্গে শাবক থাকার কারণেই হাতির দলটিকে সাবধানে ফেরানো দরকার ছিল। তাছাড়া প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যও ছিল বনদপ্তরের। সেই জন্যই সন্ধ্যা নামার অপেক্ষায় ছিলেন বনকর্মীরা। অন্ধকার হতেই বনদপ্তর হাতি খেদানো অভিযানে নামে। অভিযানে জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ, বনদপ্তরের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ডিভিশন ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২০০ জন বনকর্মী ছিলেন। নামানো হয়েছিল কুনকি হাতিও। অভিযানে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। 

    হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরানোর পথে ছিল ফালাকাটায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মেইন ট্রেন লাইন। সেই জন্য বনদপ্তর রেলকেও এ ব্যাপারে আগাম জানিয়ে রেখেছিল যাতে রাতে ফালাকাটায় ওই রেল রুটে ট্রেনের গতি কম রাখা হয়। সবদিক থেকে প্রস্তুতি নিয়েই বনকর্মীরা হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরানোর অভিযান শুরু করেন। 

    ফেরানোর পথে ঘন ঘন সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। ফলে সন্ধ্যার পরে বিভিন্ন এলাকা অঘোষিত লকডাউনের চেহারা নেয়।  রাতভর প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় পটকা ফাটিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে হাতির পালটিকে জঙ্গলের দিকে ফেরাতে থাকেন বনকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত একেবারে নির্বিঘ্নে কোনরওকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বুধবার সকাল ৬টা নাগাদ বনকর্মীরা দলটিকে জলদাপাড়ার দক্ষিণ খয়েরবাড়ির জঙ্গলে নিরাপদে ফেরাতে সক্ষম হন। 

    জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, সঙ্গে শাবক থাকায় এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আমাদের দপ্তরের কর্মীরা রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বুধবার সকালে হাতির দলটিকে সফলভাবে জঙ্গলে ফেরাতে সক্ষম হন। অভিযানে পুলিশ ও রেল সবরকমভাবে সহযোগিতা করেছে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)