সংবাদদাতা বেলদা: নিছক জলে ডুবে মৃত্যু, না কি পরিকল্পনা করে খুন? গ্রামের একটি পুকুর থেকে এক বধূর দেহ উদ্ধারকে ঘিরে এমনই প্রশ্নে বুধবার দিনভর সরগরম থাকল দাঁতন। পুলিশ আপাতত ওই বধূর বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে শ্বশুর-শাশুড়ি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তে নেমেছে।
গোপা ঘোষ (২৮) নামে ওই বধূর শ্বশুরবাড়ি দাঁতনের আঙ্গুয়া পঞ্চায়েতের মালপাড়া গ্রামে। গত শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার সকালে হাসিমপুর এলাকার একটি গভীর পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তল্লাশি চালানোর সময় পুকুরে পাওয়া যায় ইট বাঁধা একটি চাদর। যা দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি ইটের সঙ্গে বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, খুনের অভিযোগও তুলেছেন বধূর বাপের বাড়ির লোকেরা। তার ভিত্তিতে পুলিশ শ্বশুর-শাশুড়ি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও স্বামী পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন ঘোষের সঙ্গে বছর ছয়েক আগে বিয়ে হয়েছিল মুয়ারুই এলাকার গোপার। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের পুত্রসন্তানও রয়েছে। বধূর শ্বশুরবাড়ির দাবি, গত শুক্রবার রাতে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান বউমা। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর হদিশ মেলেনি। রবিবার সকালে সংলগ্ন হাসিমপুরের একটি গভীর পুকুর পাড়ে গোপার জুতো ও টর্চ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। খবর দেওয়া হয় দাঁতন থানায়।
ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। খবর যায় সিভিল ডিফেন্সেও। রবিবার ও সোমবার, দু’দিন ধরে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা বোট নিয়ে ওই পুকুরে তল্লাশি চালান। দেহ না মিললেও সোমবার তল্লাশির সময় পুকুর থেকে একটি চাদর উদ্ধার হয়। দেখা যায়, ওই চাদরটিতে বেশ কয়েকটি ইট শক্ত করে বাঁধা ছিল। সেটি গোপার বলেই শনাক্ত করে তাঁর পরিবার। তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। অবশেষে বুধবার সকালে ওই পুকুরেই গোপার দেহটি ভেসে ওঠে।
তদন্তকারীরা এখন ‘ইট-বাঁধা চাদর’কে নিয়েই গোপার মৃত্যুর রহস্যের জট খুলতে চাইছেন। কেন চাদরের ভেতর ইট ভরে জলে ডোবানো হয়েছিল? তবে কি দেহটি ডুবিয়ে রাখতেই এই কৌশল নিয়েছিল আততায়ীরা। যা পরে বাঁধন আলগা হয়ে ভেসে ওঠে। এদিকে, গোপার বাবা গোলোক ঘোষের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ে অত্যাচারিত হতো। মেয়ে সব সহ্য করত। আমাদের তেমন কিছু জানাত না। কিন্তু ওকে এভাবে পরিকল্পনা করে খুন করা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারিনি। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।’
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে আসেন বেলদা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রিপন বল। তিনি জানান, সুনির্দিষ্টভাবে একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পরই গোপার স্বামী গিয়েছে। তার এই চম্পট দেওয়াও তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত সূত্র খতিয়ে দেখে পুলিশ একপ্রকার নিশ্চিত, গোপার মৃত্যুর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। পুলিশ স্বামীর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট যাবে, গোপার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।