এসআইআরের নামে মানুষকে হেনস্তা, ফরাক্কায় হিয়ারিং ক্যাম্প ভাঙচুর
বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এসআইআর হিয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বেছে হিয়ারিংয়ে এ ডাকা হচ্ছে। হিয়ারিংয়ে তাদের ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশনেও আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। বুধবার দুপুরে এমনই অভিযোগ তুলে ফরাক্কা বিডিও অফিসে রীতিমতো ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। এক অফিসারকেও শারীরিক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এসআইআরের কোন হিয়ারিং করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় জনতা। আগ্রাসী জনতার হাত থেকে বাঁচতে অফিস ছেড়ে পালিয়ে যান বিডিও সহ কর্মীরা। সাধারণ মানুষকে হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফরাক্কা থানার পুলিশ। অপরদিকে অত্যধিক কাজের চাপ সৃষ্টির প্রতিবাদে এসআইআরের কাজ থেকে গণইস্তফা দিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বিএলওরা। মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, সরকারি কর্মীরা সাধারণের জন্যই কাজ করছেন। তাঁদের আক্রমণ করা কাম্য নয়। যারা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করছে তাছদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ সংস্থা, সাধারণ মানুষকে সমস্যায় না ফেলে তার কাজ করা উচিত। সেখানে বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে একের পর এক বিড়ম্বনায় ফেলছে। যা হয়েছে, তা জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমি যতটা পেরেছি মানুষকে সামাল দিয়েছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের এই তুঘলকি কাজকর্ম মানব না।
ফরাক্কা বিডিও অফিসে হিয়ারিং চলাকালীনই অভিযোগ ওঠে, ডকুমেন্টস ভেরিফিকেশনের নামে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। দুপুর নাগাদ একদল জনতা ক্যাম্পে প্রবেশ করে। লাইনে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষকে তারা বাইরে বের করে দেয়। ক্যাম্পে ঢুকে এসআইআরের কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়। চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করা হয়। চেয়ার ছুড়ে মারা হয় এক কর্মীকে। তারপর বিডিওর অফিসে ঢুকেও ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আগেই বিডিও জুনায়েদ আহমেদ সহ কর্মীরা বেরিয়ে যান। ওই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন মনিরুল ইসলাম। তিনি ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে বলেন। যদিও তিনি সাধারণ মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। তার অনুগামীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেয়।
অপরদিকে, এদিনই সকালে ফরাক্কার প্রায় শতাধিক বিএলও কর্মী বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। কর্মীরা বিএলও পদ থেকে গণ ইস্তফা দেন। যদিও তাদের এই ইস্তফা গৃহীত হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বিএলও সৈয়দ তাজ ইসলাম বলেন, সকালে এক নির্দেশ, বিকেলে আর এক নির্দেশ। পরের দিন আবার অন্য নির্দেশ আসছে। আমরা সাধারণ মানুষকে উত্তর দিতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন যা শুরু করেছে তাতে বহু মানুষের নাম বাদ পড়বে। আমরা আর পারছি না। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। আমরা আর এই কাজ করতে পারব না।
ফরাক্কা বিডিও অফিস ও হিয়ারিং ক্যাম্প ভাঙচুর। -নিজস্ব চিত্র