নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: হাতে আর মাত্র দু সপ্তাহ। ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের শুনানি পর্ব শেষ করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। যদিও খাতায় কলমে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শুনানি প্রক্রিয়া চলার কথা। কিন্তু কমিশন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নদীয়া জেলার প্রায় আট লক্ষ ভোটারের শুনানি শেষ করতে হবে জেলা প্রশাসনকে। এই তালিকায় যেমন আনম্যাপড ভোটার রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন সন্দেহভাজন ভোটারদের একটি বড় অংশ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার সন্দেহভাজন ভোটার এবং ২ লক্ষ ৮১ হাজার আনম্যাপড ভোটার রয়েছে। কিন্তু স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি করানো জেলা প্রশাসনের পক্ষেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এখনও পর্যন্ত ২ থেকে আড়াই লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে নদীয়া জেলায়। নির্বাচনের ঠিক আগেই এই দায়িত্ব বাড়ায় প্রশাসনের উপর চাপ যে দ্বিগুণ হতে চলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
চাপ সামাল দিতেই জেলায় অতিরিক্ত মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আড়াইশো জন মাইক্রো অবজার্ভার জেলায় আসতে পারেন। তবে এই ব্যবস্থায় বাস্তবে কতটা সুফল মিলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ মাইক্রো অবজার্ভাররা সরাসরি শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। তাঁদের দায়িত্ব মূলত শুনানি পর্ব সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। এবার শুনানির কাজে যুক্ত করা হয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডিশনাল রিটার্নিং অফিসারদেরও (এইআরও)। তাঁদের কাজের উপর নজর রাখতেই অতিরিক্ত মাইক্রো অবজার্ভার আনা হচ্ছে। তবে সীমিত সময়, বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং প্রশাসনিক বাস্তবতার নিরিখে কমিশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই শুনানি পর্ব শেষ করা আদৌ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে শুনানি প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলেই মনে করছে প্রশাসন মহল।
এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসন মহলেও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার উপর ‘ওয়াটস্যাপ’ নির্দেশিকা নিয়ে প্রশাসন মহলেও ক্ষোভের অন্ত নেই। কারণ বিগত এক মাস গোটা প্রক্রিয়ায় একাধিক পরিবর্তন ও নির্দেশিকা এসেছে কোনওরকম এসওপি ছাড়াই। যার ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে অন্ধকারে প্রশাসনও। বিশেষ করে সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যার ক্রমাগত বাড়া এবং কমার প্রবণতা বিপাক ফেলেছে প্রশাসনের আধিকারিকদের।
নদীয়া জেলায় এতদিন ১৯২ জন আধিকারিক শুনানি করেছেন। যার মধ্যে নদীয়া জেলার ১৭টি বিধানসভার জন্য ১৭ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ১৭৫ জন অ্যাডিশনাল রিটার্নিং অফিসার রয়েছেন। তাঁদের জন্য নদীয়া জেলায় ২৫৫ জন মাইক্রো অবজার্ভার দেওয়া হয়েছিল কমিশনের তফর থেকে। এতে নদীয়া জেলার বেশি কিছু বিধানসভায় নথি গ্রহণ করা নিয়ে ইআরও এবং মাইক্রো অবজার্ভারের মধ্যে মতপার্থক্যও হতেও দেখা গিয়েছিল। এমনকী অনেক জায়গায় আধার কার্ড গ্রহণ করা নিয়েও গড়িমসি দেখানো হয়েছে। তবে শুনানির গতি বাড়াতে এবার জেলার ১৮৫ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডিশনাল রিটার্নিং অফিসার অর্থাৎ এএইআরওরা শুনানি করবেন। যদিও তাঁদের হাতে ভোটারদের তালিকাতে সংযুক্ত করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তাঁদের শুনানির কাজ দেখার জন্যই আরও আড়াইশো জন মাইক্রো অবজার্ভার আসবে বলে জানা গিয়েছে।
এক আধিকারিকের কথায়, অতিরিক্ত মাইক্রো অবজার্ভার আসবেন দু’-তিনদিন বাদে। অর্থাৎ আরও কয়েকদিন সময় নষ্ট হল। তাই জানুয়ারি মাসের মধ্যেই এই বিশাল শুনানি শেষ করা কঠিন। কারণ এরপর ফর্ম-৬ ও ফর্ম -৭ এর শুনানিও করতে হবে।