৭৯০ গ্রাম ওজনের সদ্যোজাতকে তিনমাসের চেষ্টায় সুস্থ করে বাড়ি ফেরালেন চিকিৎসকরা
বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: জন্মের সময় ওজন ছিল মাত্র ৭৯০ গ্রাম। প্রিম্যাচিওর কন্যা সন্তানকে ৯৫ দিন হাসপাতালে রেখে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা করে মায়ের কোলে তুলে দিলেন চিকিৎসক-নার্সরা। আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নজিরবিহীন চিকিৎসায় মেয়েকে ফিরে আনন্দে আত্মহারা মা তারকেশ্বরের বাসিন্দা বৃন্তি মাঝি। মঙ্গলবার হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগ থেকে পরিবারের হাতে নবজাতককে তুলে দেওয়া হয়।
আরামবাগ মেডিকেলের এমএসভিপি ইন্দ্রা দত্ত বলেন, এখানে প্রতিদিন সদ্যোজাতের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করেছেন চিকিৎসকরা। সাহায্য করেছেন নার্সরাও। মায়ের দুধও বিশেষ পদ্ধতিতে শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে। এখন শিশুর ওজন ১৫১০ গ্রাম হয়েছে। ভর্তি থাকা অবস্থায় চোখের সমস্যা হওয়ায় চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকরা দেখেছেন। তারপর সমস্ত কিছু দেখে চিকিৎসকরা শিশুকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শিশুর সঙ্গে তার মা'ও ৯৫ দিন হাসপাতালেই ভর্তি ছিল। শিশুকে বাড়িতে কীভাবে দেখভাল করতে হবে তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসএনসিইউ বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ৮০০ গ্রামের নীচে ওজনের শিশুকে বাঁচানো কার্যত চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের কাছে। সেইমতো চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে গিয়েছেন। নার্সরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তার ফলে শিশুর ওজন বেড়েছে। এখন সে অনেকটাই সুস্থ।
শিশুর মা বলেন, আমি আশা করিনি সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারব। চিকিৎসকদের চেষ্টাতেই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি। ওঁরা যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই মেয়েকে রাখব। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর ওই প্রসূতিকে আরামবাগ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তিনি ছ’ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সেই হাসপাতালে স্বাভাবিক ভাবেই ওই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের পরই সদ্যোজাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আরামবাগ মেডিকেলের এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। এতদিন সেখানেই ভর্তি ছিল ওই কন্যা সন্তান। আরামবাগ থেকেই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় কলকাতায় শিশুর চোখের চিকিৎসার জন্য আট বার নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির সময় নবজাতকের ওজন ছিল ৭৯০ গ্রাম। কিন্তু মঙ্গলবার তার ওজন হয় ১৫১০ গ্রাম।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এতদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করে বাড়ি ফেরানোর ইতিহাস হাসপাতালে নেই। শিশুটিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। কিন্তু কোনও সংক্রমণ না থাকায় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়নি। তারমধ্যেই শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। ফলে এটি হাসপাতালের এসএনসিইউ বিভাগের অন্যতম সাফল্য। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এসএনসিইউ বিভাগে ২০২৫ সালে ১২২০ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়। তারমধ্যে মৃত্যু হার ৬.৮ শতাংশ। চার শতাংশ রোগীকে রেফার করা হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।