• অবৈধভাবে বালি তোলায় ব্রাহ্মণী নদীর বুকে পুকুর! আচমকা অভিযানে ১৩২ বস্তা উদ্ধার
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট : নদীর মধ্যে বড় পুকুর! শুনতে অবাক লাগলেও এমনই ছবির দেখা মিলেছে রামপুরহাটের বৈধরা ব্যারাজের অদূরে ব্রাহ্মণী নদীতে। অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদীর মধ্যে বড়, বড় গর্ত বা পুকুরের মতো তেরি হয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেখানে হানা দেয় রামপুরহাট থানার পুলিশের দল। যদিও পুলিশ দেখে বালি উত্তোলনকারীরা চম্পট দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৩২ বস্তা বালি, ৩০টি খালি বস্তা,  ৩টি  অ্যালুমিনিয়ামের বালতি, ৪টি লোহার বেলচা এবং তিনটি বড় রাবার টিউব বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় ১৩ জনের নাম সহ আরও অনেকে রয়েছেন বলে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর হয়েছে। যাদের অধিকাংশেরই বাড়ি নলহাটি থানা এলাকায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিএনএস আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু হয়েছে।

    ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া জয়পুর, শালবনী, বৈধরা সহ একাধিক জায়গা থেকে রাতের অন্ধকারে ব্রাহ্মণী নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে পাচার চলছে। তবে বালি দুষ্কৃতীরা তোলা ও পাচারের কৌশল বদলেছে। আগে পাচারকারীরা নদী বক্ষ থেকে বালি তুলে ট্রাক্টর বা লরিতে বোঝাই করে পাচার করছিল। কিন্তু রাস্তায় পুলিশ ও প্রশাসনের জোর ধরপাকড় শুরু হয়ে যাওয়ায় তাই এবার নদী থেকে বেলচার মাধ্যমে বালি তুলে বস্তায় ভরে মোটর ভ্যানে চাপিয়ে দূরবর্তী এলাকায় মজুত করা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে ট্রাক্টরে লোড করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হচ্ছে। যার ফলে নদীবক্ষে একাধিক বড়, বড় পুকুর তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যা হলেই রাবার টিউবে চেপে বালি তোলার কাজে নেমে পড়ছে তারা। ভোর হতেই এলাকা ফাঁকা।  

    প্রসঙ্গত, জয়পুর থেকে বৈধরা ব্যারাজ খুব কাছেই। ১৯৫৬ সালে এই ব্যারাজের উদ্বোধন হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বর্ষার সময় ঝাড়খন্ড থেকে আসা জল এই ব্যারাজের একাধিক লকগেটের মাধ্যমে ধরে রাখা হবে। খরার সময় চাহিদামতো লকগেট খুলে সেই জল মেন ক্যানালের মাধ্যমে ছাড়া হবে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যারাজের তারপর থেকে কিন্তু কোনও সংস্কার হয়নি। এদিকে ব্যারাজের অদূরে অবৈধ বালি মাফিয়াদের রমরমার কারণে আশঙ্কার মেঘ দেখছেন বাসিন্দারা।  কারণ, প্রশাসনের নিয়মানুযায়ী ব্যারাজের আপ ও ডাউনে তিন কিলোমিটারের মধ্যে বালি তোলা যাবে না। কিন্তু তারপরও অবৈধ বালির উত্তোলন চলছে। যা তিলপাড়া ব্যারাজের মতো ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বালি তোলার ফলে নদীর মধ্যে বড় বড় গর্ত বা পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। 

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতে যখন জল থাকে, তখন স্নান করতে নেমে অনেকের এই গর্তে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে। নিয়মিত  অভিযান চালালে এভাবে বালি চুরির প্রবণতা কমে আসবে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরণের আচমকা অভিযান জারি থাকবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)