• ছয় সন্তানের পিতা হলেই ঘরে নোটিস!
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রবীন্দ্রনাথের গল্পে মিনির বাবার কাছে কাবুলিওয়ালা বলেছিলেন, ‘তুমিও পিতা, আমিও পিতা’। পিতার মধ্যে সন্তানস্নেহ নিয়ে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু পিতাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কারও ছ’জন সন্তান থাকলে তাঁকে কমিশন বাঁকা চোখে দেখছে। ছেলেদের ডেকে তারা জিজ্ঞেসা করছে, খাতা কলমে যাঁকে বাবা হিসেবে দেখানো রয়েছে, তিনি সত্যিই আপনার বাবা তো? তবে, শুধু মুখের কথাতে ভরসা নয়, প্রমাণ হাতে শুনানিকেন্দ্রে তাঁদের যেতে হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানে ছ’জন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার পিতা। সংসার চালাতে সক্ষম হলেও এসআইআরের গুঁতোয় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। প্রত্যেককে নোটিস করা হয়েছে। আদৌও তাঁরা ছ’জন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। ছেলেদেরও নথি নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার থেকে তাঁরা শুনানি কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, কার কতজন সন্তান রয়েছে, সেটা দেখা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। বৈধ ভোটার চিহ্নিত করতে তাঁদের ডাকার কেন প্রয়োজন হল, তা অনেকেরই বোধগম্য হচ্ছে না। কমিশন অবশ্য মনে করছে, ছয় সন্তানের জন্ম দেওয়া স্বাভাবিক নয়। ম্যাপিং করার জন্য অনেকেই একজনকে পিতা দেখিয়ে নাম তুলেছেন। এক আধিকারিক বলেন, ‘হাম দো হামারে দো’ এই ধারণা আগে ছিল না। মূল্যবৃদ্ধির এই যুগে বেশিরভাগ পিতা-মাতা একজন সন্তানকেই বড় করে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। কিন্তু আগে অনেকেই কোনও কিছু চিন্তা না করে ছ’ থেকে আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এতদিন তাঁদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ছ’জন একজনকেই পিতা দেখিয়ে ম্যাপিং করে অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, যাঁদের মা বা বাবার বয়সের সঙ্গে ১৫ বছরের কম ফারাক রয়েছে, তাঁরাও শুনানি কেন্দ্রে ডাক পেয়েছেন। মন্তেশ্বরে এক প্রাক্তন সেনাকর্তার স্ত্রী শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। তাঁর বয়স ৯৭ বছর। তিনি বলেন, আজব সব যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে। এসব করে কমিশন আমাদের অপমান করছে। 

    তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কে কতজন সন্তানের জন্ম দেবেন, সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করে দিতে পারে না। আমজনতাকে শুধু হয়রান করা হচ্ছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, নির্বাচন কমিশন অবৈধ ভোটার খুঁজতে কী পন্থা নেবে, সেটা অন্য কোনও দল ঠিক করতে পারে না। তারা যেটা ভালো বুঝবে, সেটাই করবে। বিএলও বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করতে চাইছে। সেই কারণে নানা ফন্দি করছে।
  • Link to this news (বর্তমান)