নোটিসপ্রাপ্ত বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের নথিপত্র পরীক্ষা করলেন জেলাশাসক
বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এসআইআরের নোটিস পেয়েছিলেন বর্ধমানের রথতলার একটি বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা। বুধবার খোদ জেলাশাসক আয়েশা রানি এ সেখানে গিয়ে তাঁদের নথি দেখলেন। সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই জেলাশাসক বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নথি দেখেন। তিনি বলেন, ম্যাপিং না হওয়ার জন্য বৃদ্ধাশ্রমের কয়েকজন নোটিস পেয়েছিলেন। কমিশনের নির্দেশ মেনে ‘এনকোয়ারি’ করা হয়। সেই রিপোর্ট দেখে ইআরও বা এইআরও’রা সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁদের কাছে পুরানো অনেক নথি রয়েছে। কিন্তু, কমিশন যে নথিগুলি চেয়েছে সেটা হয়তো সবার কাছে নেই। বৃদ্ধাশ্রমের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমেও গিয়েছিলাম।
শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার। নোটিসে বলা হয়েছে, বর্তমান ভোটার তালিকা এবং আগের এসআইআরের সময় প্রস্তুত ভোটার তালিকায় আপনার পিতার নামের অমিলের কারণে নোটিস করা হচ্ছে। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নামের বানান ঠিক রয়েছে। তারপরও ডাকা হয়েছে। তাছাড়া আমরা পাসপোর্ট রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তা দিয়েছে। নথি ভুল থাকলে সেটা পেলাম কিভাবে। উদ্দেশ্যে প্রণেদিতভাবে ডাকা হচ্ছে। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা দিল্লিতে বসে রয়েছেন। ময়দানে নেমে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে না। বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিতে হচ্ছে বিএলও’দের। আমাদের উপর মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমরা গণ ইস্তফা দেব।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ভোটারকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নামের বানানের সামান্য ভুলের কারণে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার ভাতার বিডিও অফিসের সামনে এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে। এক সরকারি কর্মী হেনস্তার শিকার হন। দেওয়ানদিঘিতেও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। জেলার বেশ কিছু গ্রামের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা শুনানির নোটিস পেয়েছেন। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রাম গুলিতে এই ছবি বেশি দেখা যাচ্ছে। জেলার এক শীর্ষ কর্তা বলেন, বিএলও’দের দিয়ে সংশোধনের কাজ করা হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সেটা না করে শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। কোনও কোনও ব্লকে ২০ থেকে ২৫ হাজার বাসিন্দা ডাক পাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বৃদ্ধাশ্রমের বা অন্যান্য আবাসিকদের জন্য কমিশন নিয়ম কিছুটা শিথিল করায় সেখানকার বাসিন্দাদের নাজেহাল হতে হচ্ছে না। সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই তাঁদের নথি দেখে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। ইএআরও বা এইআরও তা দেখে বৈধতা সিলমোহর দিচ্ছেন। বর্ধমানে রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে নথি পরীক্ষা করছেন জেলাশাসক আয়েশা রানি এ।-নিজস্ব চিত্র