জঙ্গলে আগুন লাগানোয় বেরোল বন বিড়াল, সালারের গ্রামে বাঘের আতঙ্ক
বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কান্দি: শীতের মরশুমে উত্তাপ পেতে জঙ্গলে আগুন ধরানোর পরেই গ্রামজুড়ে আতঙ্ক। কারণ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল বন বিড়াল। আর তাই দেখে গ্রামে ছড়াল বাঘের আতঙ্ক। আত্মরক্ষায় গ্রামের যুবকরা লাঠি হাতে নেমে পড়েন। যদিও শেষমেশ সেখানে বন দপ্তরের কর্মীরা পৌঁছে সুস্থ অবস্থাতেই বন বিড়ালটিকে উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের সালার থানার বড়খড়ি গ্রামের ঘটনা।
ঘটনার সূত্রপাত এদিন বিকেলে। স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে কয়েকজন কিশোর গ্রামের শেষে বাবলা নদীর পাড়ে জঙ্গলে খেলা করছিল। সেখানে তারা জঙ্গলের পাতা, ডালপালা জোগাড় করে আগুন ধরিয়ে ফেলে। এর কিছুক্ষণ বাদেই জঙ্গলের ওই জায়গা থেকে একটি বন বিড়াল বেরিয়ে আসে। যা দেখে ওই কিশোরদের মধ্যে বাঘের আতঙ্ক তৈরি হয়। তারা গ্রামের দিকে প্রাণপন ছুট দেয়। এরপর গ্রামে এসে বাঘের দেখা মেলার কথা বলতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক শেখ বলেন, ছেলেরা জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দিলে বাঘের মতো দেখতে জন্তুটি মাঠের দিকে ছুটে আসে। যেটা অনেকেই দেখেছিলেন। এরপর সেটি মাঠের সরষের জমির মধ্যে ঢুকে পড়ে।
বাসিন্দারা জানান, এই সময় গ্রামের ছোটদের বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে নিতে থাকেন অভিভাবকরা। বড়রাও আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির দিকে ছুট দেন। মহিলারা দরজার কাছে লাঠি হাতে পাহাড়া দিতে থাকেন। এরপর গ্রামের যুবকরা লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়েন ওই বন্য জন্তুর খোঁজে। বাসিন্দা হিল্লাল শেখ বলেন, চেহারার গঠন দেখে অনেকেই প্রথমে জন্তুটিকে বাঘের বাচ্চা ভেবেছিলেন। কিন্তু বন দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিষয়টি পরিস্কার হয়।
এদিকে সন্ধ্যা নাগাদ বন দপ্তরের কর্মীরা সেখানে পৌঁছনোর পর গ্রামের যুবকরা সরষের জমির চারদিক ঘিরে ফেলে। পরে বেড়ালটিকে ধরে লাঠির সঙ্গে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে আনা হয়। বাসিন্দা কুমুরুদ্দিন শেখ বলেন, গ্রামের যুবকরা জন্তুটিকে ধরে ফেলার পর কোনও ক্ষতি করেনি। সেটি বন দপ্তরের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। কান্দির বন দপ্তরের রেঞ্জ অফিসার বিউটি মল্লিক জানান, আসলে ওই জন্তুটি ছিল বন বিড়াল। যেটা অনেকটা বাঘের মতো দেখতে হলেও সেটি আসলে নিরীহ প্রাণী। প্রাপ্ত বয়স্ক বন বিড়ালটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বোঝানো হয়েছে এটি কোনও ক্ষতি করে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সালারের রমনা বড়খড়ি গ্রামে বন বিড়াল ধরে বন দপ্তরের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। -নিজস্ব চিত্র