• বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসে বাসস্থান হারাচ্ছে সাপ, শীতেও গৃহস্থের বাড়িতে
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, করিমপুর: বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংসের ফলে শীতকালেও সাপেরা আশ্রয় খুঁজছে গৃহস্থের বাড়িতে। কোথাও বাড়িঘর নির্মাণ বা মাটি কাটার কারণে শীতঘুমের মধ্যেও এখন স্বস্তি নেই সাপেদের। গর্তের বাসস্থান হারিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের লোকালয়ে ঢোকার প্রবণতা বাড়ছে। বন জঙ্গলের গর্ত থেকে সাপ পালিয়ে যাচ্ছে আশেপাশের বাড়িতে। বর্ষার সময় বিভিন্ন গর্তে জল জমে যাওয়ার কারণে সাপ ঘরের কোণে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তবে, শীতের শুরুতে সাপ শীতঘুমে গর্তে ঢুকে যায়। শহরের থেকে গ্রামে সাপের বসবাস বেশি। এখন গ্রামেও জনবসতি বাড়ছে এবং বাগান পরিষ্কার করে চলছে বাড়িঘর তৈরির কাজ। ফলে সমস্যায় পড়ছে সাপ। করিমপুর নেচার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি গোলক বিশ্বাস জানান, সাপ মূলত নিরিবিলি নির্জন জায়গা পছন্দ করে। সাপের দেহে শীতল রক্তের কারণে শীতকালে অর্থাৎ নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে মাঝ ফেব্রুয়ারি অবধি প্রায় তিন মাস সাপেরা শীত ঘুমের জন্য মাটির নীচে গর্তে আশ্রয় নেয়। এখন ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করলেও গত ২০ দিনে করিমপুর ও আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি বিশালাকার খরিস সাপ উদ্ধার হয়েছে। আশেপাশের এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কার বা মাটি কাটার কারণে বিপদগ্রস্ত হয়ে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। চাষের জমি, পুকুর, নদী, নালা, খাল বিল বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি কাটার যন্ত্র দিয়ে অবৈজ্ঞানিকভাবে মাটি কেটে ফেলার ফলে সাপেদের বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শীত ঘুমের সময় সাপেরা অনেক সময় খিদে পেলেও বাইরে বের হয় না। আবার কখনও কখনও শীতের রোদে গা গরম করার জন্য সাপ গর্ত থেকে উপরে উঠে আসে। রোদ গায়ে মেখে আবার নিজের আশ্রয়ে ঢুকে যায়। এবারের বর্ষাকাল থেকে শীতের আগে অবধি প্রতিদিন প্রায় দু’-তিনটি করে সাপ বিভিন্ন বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচুর মানুষকে সাপে কামড়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খরিস থেকে কালাচ, সব রকম সাপই এখন নিজের আশ্রয় ছেড়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। নেচার কেয়ার সোসাইটির অন্য সদস্য তরুণ পোদ্দার বলেন, এভাবে যেখানে সেখানে অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটা চলতে থাকলে একসময় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য হারাবে। আশ্রয়হীন সাপ অনেক সময় লোকালয়ে আশ্রয় নেবে। সাপের উপদ্রব বাড়বে ও মানুষকে সাপে কামড়ানোর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, সাপ সবসময় নিস্তব্ধ জায়গায় থাকতে চায়। তাই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড অর্থাৎ কাঁটাতারের বেড়ার আশেপাশে মানুষের যাতায়াত কম হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ বসবাস করে। কিন্তু গ্রামের আশেপাশে বনের পরিবেশ এভাবে ধ্বংস হওয়ার কারণেই সাপ বাড়িতে আশ্রয় খুঁজছে। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এব্যাপারে মানুষের সচেতন হওয়া এবং সতর্ক থাকা খুব প্রয়োজন।
  • Link to this news (বর্তমান)