• বিষ্ণুপুরের যমুনাবাঁধে ভিড় পরিযায়ী পাখির, চওড়া হাসি পক্ষীপ্রেমীদের
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বাঁধের জলের পাশে থাকা গাছ থেকে উড়ে গেল ওই লিটিল গ্রিভ। আবার জল ছুঁয়ে চোখের নিমেষে জায়গা বদল করল গাদোয়াল। 

    বিষ্ণুপুরে ঐতিহাসিক যমুনাবাঁধে এভাবেই এবার ভিড় করেছে পরিযায়ী পাখির দল। সকাল সকাল দেশি, বিদেশি পাখি দেখতে যমুনা বাঁধের আশপাশে ভিড় জমাচ্ছেন পক্ষীপ্রেমীরা। সঙ্গে রয়েছে সাধের ক্যামেরা ও বাইনোকুলার। মোদ্দা কথা এবার শীতে যমুনা বাঁধের কাছে গিয়ে মন ভালো হয়ে যাচ্ছে পর্যটকদের। 

    বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহে বার্ষিক ওয়াটার বার্ড গণনা চলছে। তাতে বন দপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও পক্ষীপ্রেমীদের নানা সংগঠনের তরফ থেকে যমুনাবাঁধে পরিযায়ী পাখিদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে গাদোয়াল, বালি হাঁস, শরাল, লিটিল গ্রিভ, রেড ক্রেস্টেড পোচার  প্রভৃতি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে।  বন দপ্তরের বিষ্ণুপুর-পাঞ্চেত ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, প্রতিবছরই জানুয়ারিতে বার্ষিক ওয়াটার বার্ড কাউন্ট করা হয়। এবারেও ১২ জানুয়ারি থেকে সেই সপ্তাহ চলছে। যমুনাবাঁধে প্রচুর পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে। এছাড়াও বিষ্ণুপুরের লালবাঁধ, দ্বারকেশ্বর নদ এবং জয়পুরের সমুদ্রবাঁধে পাখি গণনার কাজ চলবে। 

    যদিও এত বড় বাঁধে কচুরিপানা ভর্তি থাকায় খুব সামান্য অংশেই জলের দেখা মিলছে। তারই মধ্যে ঝাঁকে, ঝাঁকে পাখির দল ওঠা নামা করছে। সেসব ছবি তুলছেন পক্ষীপ্রেমীরা। এরই মধ্যে বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা পক্ষীপ্রেমিক সিদ্ধেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন পাখিদের ছবি তুলে সংগ্রহ করে রাখি। আগে ঐতিহাসিক লালবাঁধে প্রচুর পাখি আসত। পরবর্তীকালে লালবাঁধ সংস্কার এবং বোট চালানোর ফলে সেখানে পাখিদের যাওয়া-আসা কমেছে। বর্তমানে লালবাঁধের পরিবর্তে যমুনাবাঁধে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা বেড়েছে। এবারে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন প্রজাতির পাখি যমুনাবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। গাদোয়াল, বালি হাঁস, শরাল, লিটিল গ্রিভ, রেড ক্রেস্টেড পোচার প্রভৃতি প্রজাতির পাখি দেখা গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)