• সিঙ্গুরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী, জমির অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগ, সভা ঘিরে ডামাডোল
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় মুখ নরেন্দ্র মোদির সিঙ্গুরের সভা ঘিরে ডামাডোল অব্যাহত। বিজেপির প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আগেই। সেই প্রশ্ন উঠেছিল দলের পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে। আর এবার সভার জমির অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগ উঠল। বুধবার পর্যন্ত ওই প্রস্তাবিত সভার জমি ব্যবহারের অনুমোদন না নেওয়া নিয়ে অন্তত ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। বিডিও অফিস থেকে সিঙ্গুর থানায় সেইসব অভিযোগ জমা পড়ার ভিত্তিতে সভা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মুখ খোলেনি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে হেনস্তা করা এবং আইন না মানার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। 

    ১৮ জানুয়ারি হুগলির সিঙ্গুরে বাতিল ন্যানো কারখানার জমিতে নরেন্দ্র মোদির সভা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি। গোপালনগর পঞ্চায়েতের সিংহের ভেড়ি মৌজার ওই জমি স্থানীয় কৃষকদের। পাশাপাশি, সেখানে একটি কৃষি-শিল্প কোম্পানির জমিও আছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ওই ঩কোম্পানি বিনা অনুমতিতে জমি ব্যবহারের অভিযোগ দায়ের করেছে। তারপরেই একদল জমির মালিক পৃথক পৃথকভাবে প্রশাসন ও পুলিশের দারস্থ হয়েছেন। সকলেরই দাবি, বিজেপি নেতৃত্ব জমি ব্যবহারের অনুমতি চাননি। প্রসঙ্গত, বুধবার সভার মাঠে তাঁবু বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। হেলিপ্যাড তৈরির কাজও প্রায় শেষ। এদিনই বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সভার প্রস্তুতি দেখতে এসেছিলেন। তারপরেই অনুমতি ছাড়া সভাস্থল তৈরি নিয়ে হইচই শুরু হয়। স্থানীয় কৃষক দিলীপ কোলে বলেন, আমার জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এটা রীতিমতো জুলুম। আমি বিডিও এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি। সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলা-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী। সেটা আরও একবার প্রকাশ্যে এল। একজন প্রধানমন্ত্রী বিনা অনুমতিতে সাধারণ কৃষকের জমি কেন ব্যবহার করবেন? প্রধানমন্ত্রীই যদি আইন না মানেন তবে আর দেশের গণতন্ত্র অক্ষত থাকবে কী করে? যা চলছে তা নিন্দার ভাষা নেই। অন্যদিকে, বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, নাগরিকদের উন্নয়নের কথা তৃণমূল ভাবে না। অতীতে টাটাকে ওই জ঩মিতে থাকতে দেয়নি। এখন মোদিজিকে সভা করতে দিচ্ছে না! বঙ্গে অসুস্থ রাজনীতি, একনায়কতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে তৃণমূল। সবটাই চক্রান্ত। রাজনৈতিক বিতর্ক যাই হোক তার বাইরে গোটা ঘটনার একটি আইনি দিকও আছে। তাতে প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক দুদিন আগে প্রস্তাবিত সভা ঘিরে যে আশঙ্কার মেঘ ঘন হচ্ছে, তা মানছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (বর্তমান)