• ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার দাবিতে বিজেপি বিধায়কদের ধরনা, আসরে তৃণমূলও
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ ও কল্যাণী: ফর্ম-৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাধল বাগদা, বনগাঁ ও কল্যাণীতে। বুধবার বাগদা বিডিও অফিসে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তৃণমূলের দাবি, এক বিজেপি কর্মী হাজারের বেশি ফর্ম-৭ এনে সরকারি সিল ব্যবহার করে জমা দিচ্ছিলেন। তাঁর কাছে কীভাবে সরকারি সিল এল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বচসা শুরু হয়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষের নাম কাটার চেষ্টা করছে। বিজেপির পালটা দাবি, তারা বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে বাদ দিতে চায়। বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিউটন বালা বলেন, বিজেপি বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছে। বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সৌরভ গোয়ালি বলেন, তৃণমূল বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রাখতে চাইছে। আমরা এটা হতে দেব না। যদিও এবিষয়ে বিডিওর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    অন্যদিকে, ৭ নম্বর ফর্ম জমা না নেওয়ায় বুধবার বনগাঁ মহকুমা শাসকের ঘরের সামনে ধর্নায় বসেন বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটার বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার ৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকালে কয়েকটি ফর্ম জমা নেওয়ার পর ফর্ম জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বলেন, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ ভোটারদের বাঁচাতে ৭ নম্বর ফর্ম জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বিজেপি বিধায়করা সরকারি নিয়ম মেনে কাজ করে না। একজন হাজার হাজার ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে পারে না।

    কল্যাণীতেও একই ঘটনা ঘটে। বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের কাছে ফর্ম-৭ জমা নিলেন না মহকুমা শাসক। প্রতিবাদে বুধবার মহকুমা শাসক অভিজিৎ সামন্তের ঘরের বাইরে অবস্থানে বসেন তিনি। খবর পেয়ে তৃণমূল কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিধায়ককে ঘিরে শুরু করেন বিক্ষোভ। দু’পক্ষের বাক বিতণ্ডা, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উতপ্ত হয়ে ওঠে কল্যাণীর প্রশাসনিক ভবন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিধায়ক বলেন, প্রায় ২৫০টি ফর্ম-৭ নিয়ে মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। কিন্তু উনি ফর্ম জমা নিতে চাননি। 

    বিধায়কের অবস্থান-বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কল্যাণী ও গয়েশপুর শহরের তৃণমূল নেতারা। তাঁরাও মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে শুরু হয় গণ্ডগোল। বিজেপির দু’জন নেতাকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ এসে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি সামলে বিধায়ককে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে থানায় বিক্ষোভ দেখান বিধায়ক। এই বিষয়ে কল্যাণী পুরসভার পুর পারিষদ তথা তৃণমূল নেতা অরূপ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। এসে দেখতে পাই, বিধায়ক মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বসে রয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক চাকরি চুরি করেছেন। কল্যাণীর কোনো উন্নয়ন করেননি। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন আমাদের। কল্যাণী শহরের কোনো ভোটারের নাম বাদ দিতে দেব না আমরা। 

    বিএলওদের একাংশের বিরুদ্ধে ৭ নম্বর ফর্ম জমা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার সাঁকরাইল বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। হাওড়া জেলাশাসকের কাছেও বিক্ষোভ দেখায় তারা। সাঁকরাইলের বিডিও কামরুল মনি বলেন, ‘ফর্ম জমা নেওয়ার দায়িত্ব বিএলওদের।’  
  • Link to this news (বর্তমান)