• সাতসকালে চায়ের দোকানে ঢুকল মালবাহী গাড়ি, গুরুতর জখম চার
    বর্তমান | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সাতসকালে চায়ের দোকানে হাজির হয়েছিলেন সোদপুরের দুই বাসিন্দা। আচমকাই রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি বেপরোয়া ছোটো মালবাহী গাড়ি সেই চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। ওই গাড়ির ধাক্কায় চায়ের দোকানের মালিক ও তাঁর স্ত্রী সহ মোট চারজন জখম হন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটিকে আটক করার পাশাপাশি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

    সোদপুর বিষ্টু ভদ্রের মোড়ে রবীন সাঁতরার (৭২) চায়ের দোকান রয়েছে। অন্যান্য দিনের মতো বুধবার সকালেও তিনি স্ত্রী রুমা সাঁতরাকে নিয়ে চায়ের দোকান খুলেছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দা কাজল সাহা ও রতন দাস চা খেতে দোকানে এসেছিলেন। তখন একটি ছোট মালবাহী গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে প্রথমে এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। এরপর একটি দোকানে ধাক্কা দিয়ে সেটি সোজা চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। গাড়ির ধাক্কায় রবীনবাবুর পা ভেঙে যায়। তিনি বর্তমানে আরজিকর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। তাঁর স্ত্রী রুমাদেবীর গায়ে গরম চা পড়ে যায়, ধাক্কাও লাগে। তিনিও হাসপাতালে ভর্তি।

    চা খেতে আসা জখম কাজলবাবুকে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। অপর ক্রেতা রতনবাবুকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। গাড়ি আটক করে রাখা হয়। মালিককে এসে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি চালককে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। ঘোলা থানার পুলিশ এসে প্রথমে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। পরে চালককে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী অনিতা দাস বলেন, সাড়ে ছ’টা নাগাদ ওই মালবাহী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে আসছিল। চায়ের দোকানের আগে এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। তারপর একটি দোকানে ধাক্কা মেরে সরাসরি চায়ের দোকানে ঢুকে যায়। চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। গাড়ি থেকে বেরিয়ে সঠিকভাবে দাঁড়াতেও পারছিলেন না।
  • Link to this news (বর্তমান)