• কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অমিল, থমকে অদ্ভুত প্রকল্পের কাজ, চিন্তায় স্থানীয়রা
    এই সময় | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    দুই মেদিনীপুরের তিনটি ব্লকে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ করার লক্ষ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় বছর দেড়েক আগে শুরু হয়েছিল অদ্ভুত প্রকল্পের কাজ। কিন্তু সেই কাজ কাজ থমকে গিয়েছে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না মেলায় আপাতত বন্ধ মূল প্রকল্পের কাজ। কতদিনে বাস্তবায়িত হবে প্রকল্প? প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিজেপির পাল্টা দাবি, কেন্দ্র থেকে আসা টাকা নয়ছয় করেছে রাজ্য। ফলে থমকে গিয়েছে কাজ।

    কয়েক বছর আগে ভূগর্ভস্থ জলের সঞ্চয়ের নিরিখে পাঁশকুড়া-১, পিংলা ও খড়গপুর-২ ব্লককে 'সেমি ক্রিটিক্যাল জোন' হিসেবে চিহ্নিত করে স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট। ওই তিনটি ব্লকে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার কমিয়ে রূপনারায়ণ নদের জল শোধন করে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করার লক্ষ্যে ২০২০-তে ড্রোন উড়িয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। সিদ্ধান্ত হয় রূপনারায়ণ নদের জল শোধন করে সরবরাহ করা হবে পাঁশকুড়া, পিংলা এবং খড়গপুর ২ ব্লকে। এই কাজে প্রকল্প খরচ ধার্য করা হয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ হয় ২২০ কোটি টাকা।

    প্রকল্পের জন্য বছর দেড়েক আগে পাঁশকুড়ার জানাবাড়ে কংসাবতী নদীর পাশে সেচ দপ্তরের প্রায় ২২ একর জমিতে 'ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট' তৈরির কাজ শুরু হয়। পাঁশকুড়ার সেই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট থেকে পরিস্রুত পানীয় জল পিংলা এবং খড়াপুর ২ ব্লকেও পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট করার পর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিতের জন্য কংক্রিটের পিলার তৈরি করা হয়। তার পরে আর কোনও কাজ এগোয়নি বলে অভিযোগ। প্রকল্প এলাকায় ছোটখাটো কাজ চললেও সম্প্রতি প্রকল্প এলাকার মূল কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ না করায় থমকে গিয়েছে কাজ।

    সূত্রের খবর, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী মোট খরচের ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্র। ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য। পাঁশকুড়া - পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, 'জানাবাড়ে অদ্ভুত প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ৪০ শতাংশেরও বেশি টাকা খরচ করে ফেলেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনও টাকাই বরাদ্দ করেনি। সেই কারণে প্রকল্পের কাজ থমকে গিয়েছে।' পাল্টা রাজ্য প্রশাসনকে দুষছে বিজেপি।

    বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতি বলেন, 'কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ছাড়া কোনও প্রকল্পের কাজ শুরুই হয় না। পাঁশকুড়ার অদ্ভুত প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছিল। তৃণমূলের নেতারা কাটমানি খেয়ে প্রকল্পের হাল শোচনীয় করে দিয়েছে। তৃণমূলের কাটমানির জন্য রাজ্যের বহু প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে।'

  • Link to this news (এই সময়)